কলকাতা: ‘কাটমানি’ নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানালেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী৷ ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে তোলপাড় হচ্ছে গোটা রাজ্য ৷ বিধানসভাও উত্তাল হয়েছে কাটমানি ইস্যুতে ৷

কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের কর্মীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যেভাবে নানা অজুহাতে কাটমানি নিয়েছে তার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ শুধু তাই নয়, সেদিন তিনি বিভিন্ন স্তরের তৃণমূল নেতাদের কাটমানির টাকা ফেরাতে বলেন ৷ আর তারপর তেকেই রাজ্যজুড়েই শুরু হয়েছে এক নতুন পরিস্থিতি৷ টাকা ফেরতের দাবি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল জনপ্রতিনিধি অথবা নেতাদের বাড়িতে চড়াও হতে দেখা গিয়েছে সাধারণ মানুষকে৷

কাটমানি ইস্যুতে ইতিমধ্যে বিধানসভাতেও বিক্ষোভ দেখাতে দেখা গিয়েছে বিরোধীদের। সেক্ষেত্রে তাদের ক্ষোভের নিশানায় রয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীই৷ সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ এই কাটমানির ২৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট নেতারা নিলেও বাকী ৭৫ শতাংশ তো গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই ৷

তবে এটাও ঘটনা কাটমানি ইস্যুতে আরও কড়া অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে রাজ্য সরকারকে। যারফলে এবার কোনও জনপ্রতিনিধি অথবা সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ পেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য পুলিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কেউ কোনও কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে থানায় এলে, তার কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে ও তা লিপিবদ্ধ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে কাটমানি ফেরানোর নাম করে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে নেমেছেন তাতে ভোট স্ট্রাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের ‘দাওয়াই’ বলে বিভিন্ন মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে৷ তবে আবার এভাবে কাটমানি ফেরতের মাধ্যমে দলকে দুর্নীতিমুক্ত করতে গিয়ে ঠক বাজতে গাঁ উজার হবে না তো- এমন প্রশ্নও উঠেছে বিভিন্নমহলে৷