স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: অষ্টমীর রাতে মর্মান্তিক মৃত্যু হল মালদহ জেলার বুড়াবুড়িতলা এলাকার এক যুবকের। জানা গিয়েছে, স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকের মানসিক নির্যাতন এবং অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রেললাইনে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন এক যুবক। পুলিশ জানিয়েছে মৃত যুবকের নাম রাহুল ঘোষ (২২)। বাড়ি বুড়াবুড়িতলা এলাকায়।

অষ্টমীতে রাত ১১টার সময় চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন ওই যুবক। এদিকে জামাইয়ের মৃত্যুর খবর চাউর হতেই এলাকা ছাড়া হয়েছে মৃতের স্ত্রী সহ বাকি চার অভিযুক্ত। মৃত রাহুলের পরিবারের তরফে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ জেলার বুড়াবুড়িতলা এলাকার বাসিন্দা রাহুল ঘোষের সঙ্গে দেড় বছর আগে চার্চপল্লী এলাকার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা সরকারের বিয়ে হয়। জানা গিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই প্রিয়াঙ্কা ও তার বাড়ির লোকেরা কারনে-অকারনে রাহুলের উপর মানসিক নির্যাতন করত বলে অভিযোগ ওঠে। দিনের দিনের পর দিন ধরে স্ত্রীর ও তার পরিবারের নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে নিজের বাবা-মায়ের থেকে আলাদা হয়ে যায় রাহুল।

জানা গিয়েছে, বাবা- মায়ের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর রাহুল ও তার স্ত্রী অন্য একটি পাড়াতেই বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেছিল। বাবা-মায়ের থেকে আলাদা হয়ে একটু শান্ততিতে থাকবে ভেবেছিল রাহুল কিন্তু তার আর শান্তিতে থাকা হল না। আলাদা হয়ে যাওয়ার পরে রাহুলের উপর অত্যাচারের মাত্রা কমায়নি প্রিয়াঙ্কা ও তার বাড়ির লোকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আলাদা হওয়ার পরও স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তার মা ও আরও দুই বোন রাহুলের ওপর নানানভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। খেতে না দেওয়া, মারধর করা এইরকম নানাভাবে দিনের পর দিন রাহুলের উপর নির্যাতন চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে । এরপরই সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে ওই যুবক বলেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মহত্যা করার আগে ওই যুবক সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে একটি মেসেজ পোস্ট করেন এবং তার পরেই আত্মহত্যা ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

এদিকে ছেলের মৃত্যু নিয়ে বৌমা প্রিয়াঙ্কা ও তার বাপের বাড়ির লোকের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ইংরেজবাজার থানায় এদিন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাহুলের বাবা সত্য ঘোষ। পুলিশের কাছে ছেলের মৃত্যুর অভিযোগ করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ছেলে রাহুল তার স্ত্রীর বিভিন্ন বদ অভ্যাস, খারাপ আচরণ এবং চারিত্রিক দিক দিয়েও প্রচুর অভিযোগ শুনেও ভালোবাসার খাতিরে ছেলে রাহুল তার স্ত্রীকে মেনে নিয়েছিলেন তাঁরা। তিনি আরও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র পুত্রবধূ ও তার পরিবারের লোকের চাপে পড়ে তাঁদের থেকে আলাদা হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করে রাহুল।

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাহুলের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা হয় ফলে,এই অবস্থায় ওর পরিবারের লোকেরা প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে চলে যায় চার্চপল্লী এলাকায় তাদের নিজেদের বাড়িতে। রাহুলের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিয়াঙ্কার পেটের সন্তানকেও নষ্ট করে দেয় রাহুলের শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। এছাড়াও ছেলের প্রতি অত্যাচার তো ছিলই। জানা গিয়েছে দিনের পর দিন চোখের সামনে এইসব ঘটনা কোনভাবে বরদাস্ত করতে পারছিল না রাহুল। ফলে দিনের-পর-দিন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের নির্যাতনের কথা লিখেই আত্মঘাতী হয়েছে সে।

ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে রাহুলের পরিবারের তরফে চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

যদিও ঘটনার পর থেকে ফেরার হয়েছে রাহুলের স্ত্রী সহ আরও চারজন। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে ইংরাজবাজার থানার পুলিশ। এদিকে ওই যুবকের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পাড়া-পতিবেশীরা। চার্চপল্লী এলাকায় অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করে রাহুলের প্রতিবেশীরা।