বিশেষ প্রতিবেদন: প্রথমে শুক্রবার ব়্যাব ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলা৷ সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার ফের আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা৷ পরপর দুটি নাশকতার চেষ্টায় বাংলাদেশের রাজধানীতে ভয় ছড়িয়েছে৷ গত ২৪ ঘণ্টায় বিস্ফোরক বোঝাই জ্যাকেট পরে বারবার হামলা হয়েছে নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর উপর৷ অত্যন্ত তৎপরতায় দুটি হামলা প্রতিহত করেছে ব়্যাব৷ সবকিছু ছাপিয়ে একটাই প্রশ্ন, ধীরে ধীরে বাংলাদেশে কি আত্মঘাতী জঙ্গিদের সংখ্যা বাড়ছে?

বাংলাদেশের জঙ্গি দমন শাখা (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট) বা সিটিটিসি কর্তারা বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো চিন্তান্বিত৷

- Advertisement -

শুক্রবার ঢাকার উত্তরা এলাকায় ব়্যাব বাহিনীর প্রস্তাবিত সদর কার্যালয়ে যেভাবে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান সহ বিভিন্ন সন্ত্রাস কবলিত দেশেই দেখতে পাওয়া যায়৷ বিস্ফোরণে বোঝাই জ্যাকেটে পরে টার্গেটের কাছাকাছি গিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেওয়া৷ সেই কাজটি করতে গিয়েই ধরা পড়া জঙ্গি নিজেকে উড়িয়ে দেয়৷ আর শনিবার সকালে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় ব়্যাব চেকপোস্টের সামনে গুলির লড়াইয়ে নিহত জঙ্গির দেহেও মিলেছে প্রচুর বিস্ফোরক বোঝাই জ্যাকেট৷ দুটি ঘটনাতেই চিন্তার ভাঁজ বাংলাদেশ সরকারের৷

গত ২৪ ঘণ্টায় পরপর জঙ্গি হামলার ঘটনাই নয়, তিনদিন আগে চট্টগ্রামের দুটি জঙ্গি ডেরায় অভিযানে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা৷ এরাও সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য৷ এই অভিযানে চার জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে৷

গত বছর ঢাকার গুলশনে হোলি আর্টিজান ক্যাফের মধ্যে হামলাকারী প্রত্যেকেই আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য ছিল৷ শুধু তাই নয়, গুলশন হামলার পরবর্তী যে কটি জঙ্গি বিরোধী অভিযান হয়েছে তার কয়েকটি ক্ষেত্রে বিস্ফোরণে নিজেদের উড়িয়েছে জঙ্গিরা৷ সেই সূত্রেই বিশেষ আলোচিত হয় ঢাকার আশকোনা এলাকায় সূর্য ভিলা বাড়ির জঙ্গি ডেরায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট বা সিটিটিসি৷ সেই অভিযানে আত্মঘাতী হামলা চালায় তাহিরা নামে এক নব্য জেএমবি মহিলা জঙ্গি৷ বাংলাদেশে সেটিই প্রথম মহিলা জঙ্গির আত্মঘাতী হামলার ঘটনা৷

বাংলাদেশ জঙ্গি দমন বাহিনীর কর্তাদের মতে, পুরনো জেএমবির সদস্যরা গাজীপুরের আদালত প্রাঙ্গণে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল। সেই জেএমবি ভেঙে তৈরি হওয়া নব্য জেএমবি সদস্যরা আরও বেশি আক্রমণাত্মক৷ তাদের আত্মঘাতী হামলার জন্যই তৈরি করা হচ্ছে৷ অন্ধ ধর্মীয় আবেগ হাতিয়ার করে শেখানো হচ্ছে, আত্মঘাতী হয়ে মারা গেলেই তারা বেহেশতে (স্বর্গে) যাবে৷

জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) শক্তি খুইয়েছে৷ তার বদলে উঠে এসেছে নব্য জেএমবি সংগঠন৷ এছাড়াও রয়েছে আরও কয়েকটি উগ্র ধর্মীয় সংগঠন৷ গোয়েন্দা রিপোর্টে বারবার বলা হয়েছে, ইসলামিক স্টেট, আলকায়দা ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেই নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশি সংগঠনগুলি৷