কলকাতাঃ  আর কিছুক্ষণের মধ্যেই নেতাজি ভবনে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেখানে পৌঁছানোর আগেই বিতর্ক! নেতাজি ভবনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাজনৈতিক নেতা হিসাবে নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে অবশ্যই মোদীকে স্বাগত বলে জানানো হয়েছ।

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। শনিবার সকালে নেতাজির বাসভবনে অনুষ্ঠানে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এরপরই শোনা যায় ৩.২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নেতাজি ভবনে যাবেন৷ যদিও মুখ্যমন্ত্রী যাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচীতে পরিবর্তন করা হয় বলে জানা যায়।

১৯৪১ সালে ১৭ জানুয়ারি রাত দেড়টা নাগাদ এলগিন রোডের ওই বাড়ি থেকেই ছদ্মবেশে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র। নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোতে নানা সময়ে এসেছেন জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, এইচডি দেবগৌড়া, আইকে গুজরাল, মনমোহন সিংরা।

এক কথায়, ভারতের প্রায় সব প্রধানমন্ত্রীই এলগিন রোডের বাড়িটিতে নেতাজিকে নিয়ে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এসেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামও।

এসেছেন জাপানের তখনকার প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো বিদেশি রাষ্ট্রনায়কেরাও। এ পর্যন্ত নেতাজিকে কেন্দ্র করে কলকাতায় সব অনুষ্ঠানেরই ভরকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এলগিন রোডের ভবনটি। ২৩ জানুয়ারি কেন নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোকে এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচী তৈরি করা হল তা নিয়ে বিতর্ক হয়৷

জানা যায়, নেতাজির পরিবারের সদস্য তথা নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর চেয়ারম্যান সুগত বসুর কাছে ফোন আসে, যে প্রধানমন্ত্রী এখানে আসতে চান, সঙ্গে আসতে চান কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও। কিন্তু নামের তালিকা দেখে বেঁকে বসেন তাঁরা। তাঁদের মতে, নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আসতে পারেন। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি আসতে পারেন না।

কারণ এটি নেতাজি ভবনের ঐতিহ্য বিরোধী। এভাবে কখনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক নেতা আসেনি। জানা যায়, এরপরে কিছুটা সফরসূচিতে পরিবর্তন করা হয়। জানা যাচ্ছে, বিজেপি নেতারা নয়, নেতাজি ভবনে একাই যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ঘুরে দেখবেন। এরপর সুগত বসু এবং কৃষ্ণা বসুর সঙ্গে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী।

এই এক দিনের কলকাতা সফরে জাতীয় গ্রন্থাগারে সুভাষচন্দ্র শীর্ষক এক আলোচনাসভায় পৌরোহিত্য করার কথা রয়েছে মোদীর। তার পরে তিনি যাবেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার অন্যতম অভিজ্ঞান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে।

সেখানে সুভাষচন্দ্রকে নিয়ে একটি স্থায়ী গ্যালারির উদ্বোধন করবেন তিনি। এ ছাড়া দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নেওয়া বাংলার বিপ্লবীদের নিয়ে আরও একটি গ্যালারির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পরে হেলিকপ্টারে করে রেস কোর্সে নামবেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরে সড়কপথে লাভার্স লেন, হসপিটাল রোড, এ জে সি বসু রোড, বেলভেডিয়ার রোড হয়ে নেতাজী ভবনে পৌঁছবে তাঁর কনভয়। সেখানে ১৫ মিনিট থাকার পর জাতীয় গ্রন্থাগারে যাবেন৷

সেখানে অনুষ্ঠান শেষে একই পথে ফিরে মোদী পৌঁছবেন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি এই রুট ঠিক করেছে। এরপর রেস কোর্স থেকে শনিবার রাতে হেলিকপ্টারে বিমানবন্দরে ফিরে বিশেষ বিমানে দিল্লি ফিরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।