ফাইল ছবি। ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগ নেই ।

সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: সারদা কাণ্ডে ফের শিরোনামে সেই রহস্যময় লাল ডায়েরি৷ সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তভার সিবিআই এর হাতে আসার পর থেকে লাল ডায়েরির রহস্য আরও ঘনিভূত হয়৷ রবিবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা পৌঁছনো মাত্রই আরও একবার লাল ডায়েরির প্রসঙ্গ উঠে আসে৷

এই লাল ডায়েরির খোঁজেই মূলত পুলিশ কমিশনারকে জেরা করতে চাইছে বলে সিবিআই সুত্র খবর৷ তবে আদৌও এই ডায়েরির অস্তিত্ব কোথায়, সেই বিষয় এখনও পর্যন্ত কোনও সুত্র পায়নি সিবিআই৷ তবে কি এই ডায়েরি জন্যই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রিয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের সংঘাত? এই প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলে উঠলেও কেন এই ডায়েরির রহস্য আজও ভেদ করা সম্ভব হল না, তা সবার অজানা৷

এই ডায়েরির বিষয়ে প্রথমে তদন্তকারীদের জানিয়েছিল, সারদা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত দেবযানী মুখোপাধ্যায়৷ সিবিআইয়ে গোয়েন্দাররা দেবযানী ছাড়াও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ক্ল্যারিক্যাল পোস্টের এক কর্মীর মুখেও এই লাল ডায়েরির কথা শুনেছিল৷ ফলে, সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা নিশ্চিত রহস্যময় এই লাল ডায়েরি থেকে সারদা চিটফান্ড কান্ডের সঙ্গে জড়িতরা প্রকাশ্যে চলে আসবে৷ পাশাপাশি অনেক রাঘব বোয়ালেরও মুখোশ খুলে দিতে পারে এই লাল ডায়েরি৷ তাই সিবিআই এই লাল ডায়েরিটি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে৷

যদিও, মঙ্গলবার সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানান, তিনি এই ডায়েরির বিষয়ে কিছু জানেন না৷ সারদা কান্ডের মূল অভিযুক্ত সুদিপ্ত সেনকে এদিন বারাসাত আদালতে তোলা হয়৷ ২০১৪ সালে শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর তদন্তভার নেয় সিবিআই৷ তার পরেই এই কান্ডের মূল দুই অভিযুক্ত সুদিপ্ত সেন এবং দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে দফায় দফায় জেরা করে ইডি এবং সিবিআই কর্তারা৷

সুত্রের খবর, সেই জেরায় ওঠে আসে লাল ডায়েরির কথা৷ অভিযুক্তরা গোয়েন্দাদের জানান, তারা সারদা সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র ও পেন ড্রাইভ তুলে দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের হাতে৷ তবে, রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে এই রহস্যময় লাল ডায়েরির বিষয়ে কোনও তথ্যই পাননি সিবিআই আধিকারিকরা৷ সেই সময় জানা গিয়েছিল, রাজ্য পুলিশের কাছ থেকেও দু’রকমের কথা জানতে পারে গোয়েন্দারা৷ ২০১৪ সাল থেকেই কার্যত ‘বিখ্যাত’ হয়ে ওঠে এই ডায়েরি৷ বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমগুলিতেও এই লাল ডায়েরির কথা উল্লেখ হয়৷ সিবিআই কর্তা থেকে সাধারণ মানুষ সকলেরই আগ্রহ রয়েছে কী রয়েছে এই রহস্য ঘেরা লাল ডায়েরিতে৷

কী আছে লাল ডায়েরিতে?
মনে করা হচ্ছে, এই ডায়েরির অস্তিত্ব থাকলে সারদা কাণ্ডের অনেক রহস্যই ফাঁস হয়ে যেত৷ নাম ওঠে আসত অনেক রাঘববোয়ালদের৷ তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড়ের মতো গুরুত্বপুর্ণ তথ্য ওঠে আসার সম্ভাবনা ছিল৷ কারণ, এই রহস্যময় ডায়েরিতেই ছিল সেইসব রাজনীতিক ব্যক্তি, আরবিআই, সেবি আধিরাকারিকদের নাম৷ যারা সারদা থেকে টাকা নিয়েছেন বা লাভবান হয়েছেন৷ এমনকি, টাকার লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও রয়েছে এই ডায়েরিতে৷ সিবিআই অধিকারিকরা নিশ্চিত, এই ডায়েরি উদ্ধার করলেই খুব সহজেই একাধিক হেভি ওয়েটদের পর্দা ফাঁস হয়ে যাবে৷ তারপর থেকেই এই ডায়েরির খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে সিবিআই৷ বিভিন্ন মহলের অনুমান, এবার এই ডায়েরির রহস্য ভেদ করতেই কলকাতা পুলিশ পুলিশ কমিশনারকে জেরা করতে চাইছে সিবিআই৷

নগরপালের সঙ্গে লাল ডায়েরির সম্পর্ক কোথায়?
সারদা কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে জেরা করে ২০১৪ সালে সিবিআই জানতে পারে, এই ডায়েরি রয়েছে সিটের কাছে৷ এই ডায়েরির বিষয়ে জিজ্ঞাসা
করতেই সে সিবিআই আধিকারিকদের জানিয়েছিল, এই ডায়েরির খোঁজে তল্লাশি চালানোর প্রয়োজন পড়বে না গোয়েন্দাদের৷ কারণ, অনেক আগেই সিটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল ওই লাল ডায়েরি৷ সেই সময় এই সিটের নেতৃত্বে ছিলেন বর্তমানের কলকাতা পুলিশের নগরপাল রাজীব কুমার৷ তবে সুত্রের খবর, রাজ্য পুলিশকে এই ডায়েরির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই রহস্য আরও ঘনিভূত হয়৷ সিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ডায়েরি তাদের কাছে নেই৷ আর তাতেই লাল ডায়েরি রহস্য আরও জোরাল হয়ে ওঠে৷

দেবযানীকে ফের জেরার পরিকল্পনা কি নগরপালকে জিজ্ঞাসাবাদের আগের হোমওয়ার্ক?
ফের দেবযানীকে জেরা করতে চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে সিবিআই৷ আর তারপরেই জল্পনা তুঙ্গে৷ তবে কি নগরপালকে জেরার আগে দেবযানীর কাছ থেকে আরও কিছু তথ্য আদায় করতে চাইছেন গোয়েন্দারা? আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে সিবিআইয়ের কাছে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ ২০১৪ সালে সবার প্রথমে ইডি কর্তারা অভিযোগ জানান, সারদা মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাজ্য পুলিশের সিজার লিস্ট থেকে মিসিং৷ তারপর থেকে সারদা কান্ডের রহস্যভেদ করার অস্ত্র হিসেবে নাম ওঠে আসে “লাল ডায়েরি”৷