স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লকডাউনের পর বেসরকারি ক্ষেত্রে ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেই আশঙ্কা প্রকাশ করে পদক্ষেপ করার আর্জি জানালেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে রাজ্যের আর্থিক দাবিদাওয়ার কথাও জানান।

দেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা দেড়শো ছুঁয়ে ফেলেছে। এই অবস্থায় দেশে চলতে থাকা লকডাউন আরও বাড়ানো হবে কিনা তা জানতে বুধবার দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সকাল ১১টায় হয় ওই ভিডিও কনফারেন্স। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির এই বৈঠকে তৃণমূলের তরফে অংশ নেন সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যা।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এদিন ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেন তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন বৈঠকের শুরুতেই রাজ্যের দাবিদাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই কেন্দ্রের কাছে ২৫ হাজার কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। সেই দাবিই এ দিন ফের তুলে ধরেন সুদীপ। পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছে পাওয়া ৩৬ হাজার কোটি টাকার কথাও ফের এক বার প্রধানমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দেন সুদীপ।

এদিন বৈঠকে বেসরকারি ক্ষেত্রে ছাঁটাই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সুদীপ। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর বার্তা দেওয়া উচিৎ যাতে কর্মী ছাঁটাই না হয়।”

এদিন তৃণমূলের তরফে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ, শিব সেনার সঞ্জয় রাউত, বিজেডি নেতা পিনাকী মিশ্র, সমাজবাদী পার্টির নেতা রামগোপাল যাদব-সহ অনেকেই।

জানা গিয়েছে, ১৪ এপ্রিলের পর লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো ও করোনা সংক্রমণ রুখতে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, সাংসদ তহবিল বাতিল করার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এদিন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল। শুধু তাই নয়, করোনা মোকাবিলায় এমপিল্যাড-এর টাকা সরাসরি রাজ্যের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতারা।

এব্যাপারে সুদীপ বলেন, ‘‘সাংসদ বেতনের ৩০ শতাংশ কেন আরও বেশি দিতে আমরা তৈরি। কিন্তু সাংসদ তহবিলের টাকা বন্ধ হয়ে গেলে বহু উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ক্ষতি হবে।”

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব