নিবেদিতা দে, কলকাতা: অবাঙালি ভোটার সংখ্যা থাকায় বরাবরই বিজেপি একটা বড়সড় লড়াই দেওয়ার চেষ্টা করে৷ কিন্তু শেষপর্যন্ত সেটা গিয়ে নেতিয়ে পড়ে গঙ্গাপাড়ে৷ সেই বাম আমলেও যা ছবি ছিল হালের তৃণমূল রাজত্বেও একইরকম৷ গতবার কলকাতা উত্তর কেন্দ্রে প্রবল মোদী হাওয়ায় বারে বারে লড়াই করেও ৯৬ হাজারের বেশি ভোটে তৃণমূলের সুদীপের কাছে হেরেছিলেন রাহুল৷

এখনও পর্যন্ত জিততে পারেননি৷ তাই তিনি দলের একাংশের কাছে ‘হেরো রাহুল’ হিসেবে চিহ্নিত৷ এবার বরং আদা জল খেয়ে নেমে পড়েছেন বিজেপির একদা রাজ্য সম্পাদক৷ এবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুটা ব্যাকফুটে৷ কারণ রোজভ্যালি কেলেঙ্কারি মামলায় দীর্ঘসময় ওড়িশায় জেলে ছিলেন৷ পরে মুক্তি পেয়ে ফের রাজনীতির ময়দানে তিনি সক্রিয়৷ সুদীপবাবুর এই ‘জেলযাত্রা’ হাতিয়ার করেই প্রচারে বিজেপি৷ তবে লড়াইয়ে আছে সিপিএমও৷ ফলে ভোট কাটাকাটির খেলা রয়েছে৷

বিজেপির অন্যতম নেত্রী মীনাদেবী পুরোহিত যখন থেকে বিজেপির দাপুটে নেত্রী তখনও ভরা বাম জমানা৷ তবে রাজ্যে তৃণমূলের একটা বড় প্রভাব বিছিয়ে যাচ্ছিল৷ টিএমসি ও বিজেপির জোট শক্তিতে বেশকিছু এলাকায় পদ্মের দোলা লাগতে শুরু করে৷ উত্তর কলকাতা তারই অন্যতম৷

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে, এমনই উত্তর কলকাতা লোকসভা আসনে ফের তৃণমূল প্রার্থী সুদীপ৷ তবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রায় ১৫ দিনের মাথায় অবশেষে প্রচারে নামছেন বিদায়ী সাংসদ৷ প্রতিদ্বন্দ্বীরা যেখানে শুরু করে দিয়েছেন সেখানে লেট রানার সুদীপবাবু৷ জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে চিড়িয়ামোড়ের কাছে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজের নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন তিনি৷ চিৎপুর থানা থেকে মিছিল করে কাশীপুর রোড পর্যন্ত যাবে মিছিল আবার বিকেলেও আরেকটি মিছিল রয়েছে তাঁর৷ তবে শুধু বুধবারই নয়, টানা ৩১ তারিখ পর্যন্ত দুবেলা ঠাসা প্রচার কর্মসূচী রয়েছে বর্তমান সাংসদের৷

ফাইল চিত্র

কেন প্রচারে বিলম্ব? সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, তিনি চারবারের সাংসদ, চার বারের বিধায়ক৷ পুরনো জনপ্রতিনিধি৷ সারাবছর এলাকার সমস্ত কাজেই তাঁকে পাশে পান মানুষ৷ পাশাপাশি তিনি তৃণমূলের উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক জেলা সভাপতিও৷ তাই আলাদা করে জনসংযোগের ব্যাপার নেই৷ তাই একটু রয়ে সয়েই প্রচারে নামতে চান সুদীপ৷

প্রচারের কর্মসূচি সাজাতে এলাকাভিত্তিক দুএকটা কর্মিসভা হয়েছে মাত্র৷ সে অর্থে নির্বাচনী প্রচার বলতে যা বোঝায় তা হয়নি৷ তাও আজ মঙ্গলবার কাশীপুরে একটি কর্মিসভাও বাতিল করা হয়৷ তৃণমূল সূত্রে খবর, তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন৷ তাই কর্মিসভাটি বাতিল করতে হয়েছে৷ যদিও বিরোধীরা সুদীপবাবুর এই দেরিতে প্রচারে নামার ক্ষেত্রে তাঁর জেলযাত্রাকেই ইস্যু করেছে৷

এদিকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে সুদীপকে হারিয়ে জিততে মরিয়া ‘হেরো’ রাহুলের এবারের নির্বাচনী ইস্যু, ‘সুদীপের জেলযাত্রা’৷ তাঁর কথায়, ‘সাংসদ হয়ে বেশিরভাগ সময়টা জেলেই কাটিয়েছেন সুদীপবাবু৷ প্রয়োজনে মানুষ তাঁকে কাছে পায়নি৷’