সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ঘটনাচক্রে অনেকেই এখন বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র কিংবা ছাত্রী। অনেকেরই দাবী, তাদের বাড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের একদম পাশেই। অনেকেই আবার এমন দাবীও করছেন যে , তারা একদম সামনে থেকে ঘটনা দেখেছেন। তারা সবাই মিলে দেখেছেন বিদ্যাসাগর মহাশয়ের মূর্তি ভাঙার কাণ্ড।

ঘটনা হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ এই কলেজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম কিন্তু সেই মান সেই মতো ধরে রাখতে পারেনি। মাঝারি মানের কলেজ। NAAC (National assessment and accredation council) রেটিং অনুযায়ী বিদ্যাসাগর কলেজের রেটিং চারের মধ্যে ২.৬। গ্রেড বি। অর্থাৎ মান মাঝারি। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরাও জানেন বিদ্যাসাগর কলেজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশাল হলেও পড়াশোনার ক্ষেত্রে তার বিশেষ মর্যাদা নেই বা আহামরি কোনও ফল চমকে দেয়নি এই কলেজ। আর সেই কলেজে পড়াশোনা করার দাবী করেই এখন হাজার হাজার পোস্ট হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

দেখা যাচ্ছে , এদের অনেকেই কলকাতার ধারে কাছে কোনওদিন আসেননি কিন্তু ঘটনাচক্রে তিনি ওই একদিনের জন্য হয়ে গিয়েছেন বিদ্যাসাগরের কলেজের পড়ুয়া। সৌরভ কোলে , তিনি আদতে হাওড়া কদমতলার বাসিন্দা, পড়াশোনা করেছেন নরসিংহ দত্ত কলেজ থেকে। তিনি ফেসবুকে বেমালুম লিখেছেন, “আমি বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র, আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কিন্তু আমার গর্বের দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে আজ tmcp যে জঘন্য রাজনীতি করলো তা লজ্জার।

থাকি বিদ্যাসাগর কলেজের কাছে, তাই পুরো ঘটনাটি সামনে থেকে দেখেছি। বিজেপির মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল। মিছিল চলার সময় কলেজের ভেতর থেকেই প্রথমে ইট ছোড়া হয়। তারপর মিছিল বেরিয়ে গেলে tmcp-ছেলেরাই বাইকে আগুন লাগায়। এরপর আসি মূর্তি ভাঙার বিষয়ে।

বিদ্যাসাগর কলেজের বিধান সরণী ক্যাম্পাসে বিদ্যাসাগরের মূর্তি কলেজের একেবারে ভেতরে। সেখানে পৌঁছাতে হলে দুটো গেট পেটোতে হয়। প্রথমটি লোহার গেট, পরেরটি কাঠের দরজা। কলেজের গেটে আগে থেকেই তালা ছিল। তাহলে বিজেপি কর্মীদের দুটো গেট পেরিয়ে মূর্তি পর্যন্ত পৌঁছানো কি করে সম্ভব? আর ভিতরে তো tmcp কর্মীরা আগে থেকে মজুত ছিল ইট পাটকেল ছোড়ার জন্য।

পুরো ঘটনাটাই সাজানো এবং পরিকল্পিত। tmcp নিজেরাই বাইকে আগুন লাগায়, এবং মূর্তি ভাঙার পর মিডিয়াকে ডেকে আনে। তারপর পুলিশ এসে লাঠি চালায়,সাধারণ পথচারীদের ধরে নিয়ে যায়। শেষে বলি আজ খুব লজ্জাবোধ করছি একজন সাংবাদিকতার ছাত্র হিসেবে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা দেখে। এই নিয়ে বেশি বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। সাধারণ মানুষ এখন সাংবাদিকতাকে একটি নিম্ন মানের পেশা হিসেবেই দেখতে শুরু করেছে। আর সাংবাদিকরাও যেন সেটা প্রমাণ করতে মরিয়া। এতকিছু করেও রাজপাট শেষে বাঁচবে তো??”

এই একই পোস্ট বিভিন্ন ভাবে একটু এদিক ওদিক পরিবর্তন করে ফেসবুকে পোস্ট করছেন। সেই তালিকায় আকাশ মুখোপাধ্যায়, ডঃ প্রবীর চট্টোপাধ্যায় এমন হাজার নাম রয়েছে। কৃষ্ণ নাইয়া আবার লিখেছেন , তিনি বিদ্যাসাগর কলেজের পাশেই থাকেন। ঘটনার সময় সেখানেই ছিলেন। ইটের আঘাত লাগতে সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু পালিয়ে গিয়েও তিনি পুরো ঘটনা নিজের চোখে দেখেছেন। অবাক করা দাবী।