স্টাফ রিপোর্টার, বাসন্তি: সোমবার কুলতলিতে ২৪ ঘণ্টা বনধের ডাক দিল এসইউসিআই। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, সর্বাত্মক ভাবে এই বনধের বিরোধীতা করা হবে। তৃণমূল-এসইউসি সংঘর্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগণার কুলতলিতে মৃত্যু হয়েছে দুজনের।

ইতিমধ্যেই এসইউসিআইয়ের ৫জন সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে পাল্টা হামলা চালাবার অভিযোগে তৃণমূলেরও ৮জন গ্রেফতার হয়েছে। গোটা এলাকা এখনও কার্যত থমথমে। এরই মধ্যে সোমবার ২৪ ঘন্টার কুলতলি বনধের ডাক দিয়েছে এসইউসিআই। আমফানের ত্রাণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির মৈপীঠ এলাকা।

শুক্রবার রাতে তৃণমূলের এক নেতাকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুন করার পর, এসইউসিআই-এর এক নেতার বাড়ি জ্বালিয়ে তার চাল থেকে তাঁকে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি ক্ষতিপূরণ বিলির ক্ষেত্রে শাসক দলের ওই এলাকার নেতাদের ভূমিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন এসইউসিআই নেতারা।

তৃণমূলের অভিযোগ, শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ দলের কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তাদের দলের দুই কর্মী অশ্বিনী মান্না ও নবকুমার গিরি। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ান এসইউসি এবং সিপিএমের কয়েকশো কর্মী। লাঠি, রড, দা ও কুড়ুল দিয়ে ওই দুই তৃণমূল কর্মীকে তারা এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।

তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সিপিএম ও এস‌ইউসিআইয়ের ওই কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারাই জখম দুজনকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে স্থানীয় জামতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা অশ্বিনী মান্নাকে (৫০) মৃত বলে ঘোষণা করেন। নবকুমার গিরির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়েছেন দুই দলের বেশ কয়েকজন।

এদিকে, শনিবার বেলা বাড়তে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ে আরও। পরের পর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরইমধ্যে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় এসইউসিআই জেলা কমিটির সদস্য সুধাংশু জানার (৫২)। তাঁর স্ত্রী স্থানীয় মৈপীঠ-বৈকুন্ঠপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য।

সুধাংশুবাবু আত্মহত্যা করেছেন, না তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এসইউসিআই কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে লড়ছিলেন সুধাংশু। তাই তাঁকে এ ভাবে খুন করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ