সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: সুচিত্রা সেনের ছবিতেও রাজনৈতিক কারণে কোপ পড়েছিল। এই মহানায়িকার ছবি শুধুই রোমান্টিক রাজনৈতিক বিতর্ক মুক্ত এমনটা ভাবা উচিত নয় ৷ তাঁর অভিনীত হিন্দি ছবি আঁধি নিয়ে বিতর্ক এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছিল৷

একেবারে জরুরি অবস্থার সময় নির্মিত এই ছবিটি নিষিদ্ধ করে তৎকালীন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার৷ গত শতাব্দীর সাতের দশকে গুলজার পরিচালিত সুচিত্রা সেন এবং সঞ্জীব কুমার অভিনীত ছবিটি ঘিরে কম জল ঘোলা হয়নি৷ পলিটিক্যাল-রোমান্টিক ছবি ‘আঁধি’তেও সুচিত্রা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মূলত ছবির কাহিনী গড়ে উঠেছিল বিহারের এক নেত্রী তারকেশ্বরী সিনহার জীবনী অবলম্বনে।

কিন্তু ছবি দেখতে গিয়ে সুচিত্রা সেন অভিনীত আরতি চরিত্রটির মধ্যে তখন অনেকেই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে খুঁজে পেয়েছিলেন। ছবিতে দেখা যায়- ভোটের প্রচারে বেরিয়ে হঠাৎ এক জায়গায় নায়িকার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় বহুদিন ধরে আলাদা হয়ে যাওয়া তাঁর হোটেল ম্যানেজার স্বামীর৷ এরপর তাঁদের দুজনকে একান্তে ঘোরাফেরা করতে দেখে নানা রকম রসালো গুঞ্জন শুরু হয় ৷

এমন ঘটনাকে সামনে রেখে ওই নেত্রীর চরিত্রে কালি ছিটিয়ে ভোটের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায় বিরোধীরা৷ সেই চক্রান্ত অবশ্য ভেস্তে যায় কারণ বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রচার সভায় নায়িকা সরাসরি নিজে তাঁর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে জানিয়ে দেন- ওই আলোচিত ব্যক্তি তাঁর স্বামী ৷

ছবিটিতে জনগণকে বোঝান রাজনীতির জন্য দেশের মানুষের জন্য এই নেত্রী তাঁর স্বামী সংসার থেকে দূরে থেকেছেন৷ আর অবশ্যই এমন স্বীকারোক্তি বদলে দেয় প্রচারের অংককে৷ যথারীতি সেই নির্বাচনে দলকে জিতিয়ে বাজিমাত করেন নেত্রী আরতি ৷

আবার এটাও ঘটনা জামাই ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে শ্বশুর জহরলাল নেহরুর সুসম্পর্ক ছিল না৷ ইন্দিরার সঙ্গে ফিরোজের বিয়ে নিয়ে জহরলালের রীতিমতো আপত্তি ছিল বলেই জানা যায়৷ এমনকি এই বিয়েটি বাতিল করার জন্য জহরলাল মহাত্মা গান্ধীর শরণাপন্নও হয়েছিলেন, শেষমেশ তাতে কাজ হয়নি।

এরপর তাঁদের বিয়ে হলেও সেই বিয়ে তেমন সুখের হয়নি ৷ ইন্দিরা তার দুই পুত্র রাজীব এবং সঞ্জয়কে নিয়ে বাবা জহরলালের কাছেই থাকতে দেখা গিয়েছিল এবং ফিরোজ আলাদাই থাকতেন ৷ ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ফিরোজের কাজকর্ম নানা ভাবে প্রধানমন্ত্রী নেহরুর অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি ফিরোজ ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’ নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন।

ওই পত্রিকাটিতে তিনি তুলে ধরেছিলেন স্বাধীনতার পর থেকে অনেক শিল্পপতি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি করে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ভোগ করছে। শুধু তাই নয় এই সব ইস্যুতে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তিনি সংসদে আওয়াজ তুলেছিলেন৷ এর জেরে ওই সময় নেহরু মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রীকে পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

আঁধি ছবিতেও অবশ্য রাজনৈতিক নেত্রী আরতি এবং তাঁর স্বামীর আলাদা হয়ে যাওয়ার পিছনে আরতির বাবার একটা নেতিবাচক ভূমিকা ছিল৷ এই সব কারণে আরতির মধ্যে ইন্দিরাকে খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন ওই সময় অনেকেই৷ এদিকে ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় থাকায় আঁধি ছবিটিকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়নি৷

১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার সময় ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পরেই তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়৷ কিন্তু ১৯৭৭ সালে লোকসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসে এবং ছবিটি উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়৷

শুধু তাই তখন নয়া সরকারের উদ্যোগে দূরদর্শনেও ওই ছবিটি দেখা হয়েছিল৷ শোনা যায় বৈজয়ন্তী মালাকে প্রথমে আরতি চরিত্রটি করতে বলা হয়েছিল কিন্তু তিনি তা করতে না চাওয়ায় সুচিত্রা সেনকে ওই ছবিতে অভিনয় করতে বলা হয়৷ মূলত বাংলা সিনেমার নায়িকা হলেও হিন্দি এই ছবিটি তাঁর জীবনের অন্যতম মাইলস্টোন৷

তিনি ২৩তম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য নমিনেশন পেয়েছিলেন এবং সঞ্জীব কুমার ছবিটিতে অভিনয় করার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরষ্কার পান৷ ছবিটি ওইবার ফিল্মফেয়ার ক্রিটিক অ্যাওয়ার্ড-এ শ্রেষ্ঠ ছবির পুরষ্কার পায়৷ আঁধি ছবিটির জনপ্রিয়তার আরও একটা দিক হল রাহুলদেব বর্মণের সুরে লতা মঙ্গেশকার এবং কিশোর কুমারের গান৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।