নাগপুর: ৩.২ ওভারে মাত্র ৭ রান খরচ করে ৬ উইকেট। রবিবাসরীয় বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটের সেরা বোলিং ফিগার উপহার দিয়ে শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছেন দীপক চাহার। কিন্তু ম্যাচ শেষে আগ্রার পেসারকে ‘নির্লজ্জ’ সম্বোধন করে বসলেন সতীর্থ লেগ-স্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল। কিন্তু কেন?

না ঘাবড়ানোর কিছু নেই। পুরো ঘটনাটাই মজার ছলে। শ্রীলঙ্কান মিস্ট্রি স্পিনার অজন্তা মেন্ডিসকে টপকে রবিবার টি-২০ ক্রিকেটের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে এদিন যুবেন্দ্র চাহালের নজিরও ভেঙে দেন চেন্নাই সুপার কিংস পেসার। উল্লেখ্য, রবিবারের আগে একমাত্র ভারতীয় বোলার হিসেবে টি-২০ ক্রিকেটে ৬ উইকেট দখলের নজির ছিল চাহালের ঝুলিতেই। পাশাপাশি ২০১৭ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫ রান দিয়ে চাহালের ৬ উইকেটই ছিল ভারতীয় বোলার হিসেবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাটে সেরা বোলিংয়ের নিদর্শন।

এদিন সেই নজির ভেঙে ভারতীয় বোলার হিসেবে তো বটেই, একইসঙ্গে মেন্ডিসকে টপকে আন্তর্জাতিক টি-২০’তে সেরা বোলিংয়ের নিদর্শন রাখেন চাহার। ২০১২ জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৮ রান দিয়ে ৬ উইকেটই এর আগে ছিল আন্তর্জাতিক টি-২০’তে সেরা বোলিং ফিগার। শুধু তাই নয়, এদিন নয়া রেকর্ড গড়ার পথে হ্যাটট্রিকও তুলে নেন চাহার। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শেষে চাহাল টিভিতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন ভারতীয় দলের নয়া বোলিং সেনসেশন। সঙ্গে ছিলেন মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে বিধ্বংসী হয়ে ওঠা শ্রেয়স আইয়ারও।

সেখানেই সাক্ষাৎকারের শুরুতে চাহারকে মজার ছলে চাহাল বলেন, ‘তুমি তো আজ আমার রেকর্ড ভেঙে দিলে, বড়ই বেশরম (নির্লজ্জ) তুমি।’ হ্যাটট্রিক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ম্যাচ এবং সিরিজ সেরা চাহার চাহাল টিভি’কে বলেন, ‘আমি প্রথমে বুঝতেই পারিনি যে আমি হ্যাটট্রিক করেছি। পরে জানতে পেরে ভালোলেগেছে।’

চাহারের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ম্যাচের নায়ক শ্রেয়স আইয়ার বলেন, ১৫তম ওভারে আফিফ হোসেনকে ছয় ছক্কা হাঁকানোর পরিকল্পনা নিয়েছিলাম আমি। আইয়ারের কথায়, ‘ওভারের প্রথম তিনটি বল গ্যালারিতে পাঠানোর পর যে কোনও ব্যাটসম্যানের মাথাতেই একই চিন্তা আসবে।’ উল্লেখ্য, শূন্য রানে জীবন পাওয়ার পর ব্যাট হাতে রবিবার জামথায় ৩৩ বলে ৬২ রানের ধুন্ধুমার ইনিংস খেলেন দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক। তৃতীয় ম্যাচের আগে চাপের প্রেসার কুকারে থাকা দল অধিনায়কের পেপ-টকেও উজ্জীবিত হয়েছে বলে ম্যাচ শেষে জানান মুম্বইকার ব্যাটসম্যান।

পাশাপাশি ৩৫ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে এদিন বিপক্ষকে রানের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার প্রাথমিক কাজটা সারেন লোকেশ রাহুল। ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ১৭৫ রানের জবাবে ভারতীয় বোলারদের দাপটে ১৯.২ ওভারে ১৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ ইনিংস। ৩০ রানে নির্ণায়ক ম্যাচ জিতে নিয়ে সিরিজ কব্জা করে ভারত।