সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব। ওদের না আছে আর্থিক ক্ষমতা, না আছে প্রত্যেক বিষয়ের জন্য একজন করে গৃহশিক্ষক। নিজেদের সদিচ্ছায় ওরা সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছে জীবনের প্রথম পরীক্ষা। ফাস্ট সেকেন্ডদের ভিড়ে হাওড়ার সোমা , সৌরভ যেন ‘মেঘে ঢাকা তারা’।

সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে হাওড়ার সিঙ্গাড়ার সোমা মাইতি মাধ্যমিকে ৬০৭ নম্বর পেয়েছে। বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছেন।অন্যদিকে মা জরি ও সেলাইয়ের কাজ করে কোনওরকমে তিন মেয়ের পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি সংসারের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। বাগনান-১ নং ব্লকের সিঙ্গাড়া গ্রামের সোমা স্থানীয় ভূঁয়েড়া বি.এন.এস উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। সোমার প্রাপ্ত নম্বর বাংলায় ৯০,ইংরাজিতে ৬৮,অঙ্কে ৮৩, ভৌত বিজ্ঞানে ৮০, জীবন বিজ্ঞানে ৯৫, ইতিহাসে ৯৩ ও ভূগোলে ৯৮।

আরও পড়ুন: অভাবকে পিছনে ফেলে সফল বাঁকুড়ার নির্বেদ

বাবা আংশিক প্রতিবন্ধী,দুচোখে সেভাবে দেখতে পাননা,কোনওরকমে দিনমজুরের কাজ করেন। মা মানবিকাদেবী কখনও জরির কাজ আবার কখনও সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান। মানবিকা দেবী জানান,সোমার ছোটোবেলা থেকেই বই প্রিয়। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি সে তার মা’কে পরিবারের কাজে ও জরির কাজেও সহায়তাও করে।তিন মেয়ের মধ্যে বড় এটাই কৃতি। সোমার বাবা মেঘনাদবাবুর কথায়, “শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আমি মাসের বেশীরভাগ সময় কাজ পাইনা।মেয়ের লড়াইয়ে আমি গর্বিত।”

উলুবেড়িয়া-২ নং ব্লকের বাসিন্দা মনোজ খাঁ ও তাঁর স্ত্রী মামণি খাঁ কোনওরকমে জরির কাজ করে সংসার চালান। দুই কন্যা ও এক পুত্রের মধ্যে বড় সৌরভ এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।ওরও লড়াই অভাবের বিরুদ্ধে। মনোজবাবুর কাজে হাত লাগায় ছেলে সৌরভ।

এই বছর মাধ্যমিকে সৌরভ বানীবণ যদুবেড়িয়া বিদ্যাপীঠ থেকে ৫৬৪ নম্বর পেয়েছে।ওঁর প্রাপ্ত নম্বর , বাংলায় ৮০,ইংরাজিত ৭৬,অঙ্কে ৮০ ভৌত বিজ্ঞানে ৬০,জীবন বিজ্ঞানে-৯১,ইতিহাসে ৮৪ ও ভূগোলে ৯৩ । বাবা মনোজবাবু বলেন ,তিনি আর্থিক অনটনের কারণে ছেলের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছুক ছিলেন না। গৃহ শিক্ষক তরুণ ধাড়া ছোটো থেকে নিঃখরচায় সৌরভকে পড়িয়ে চলেছেন ও পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাচ্ছেন। তাই ছেলের এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: একনজরে দেখে নিন মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় বাঁকুড়ার কৃতীরা

বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় সৌরভ। ইতিমধ্যেই একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগে পড়া শুরু করেছে করাতবেড়িয়ার সৌরভ , সিঙ্গারার সোমা। দুজনেই চায় পড়াশোনা করে এগিয়ে যেতে।

ওঁদের সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে আমতার ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’ নামক একটি সংগঠন।সংস্থাটির পক্ষ থেকে তারা ওঁদের দিয়েছে পুস্তক ও বিভিন্ন পড়াশোনার সামগ্রী।’স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’-এর সম্পাদক তাপস পাল জানান,সৌরভদের মতো মেঘে ঢাকা তারাদের আলোয় উত্তরণের পথ দেখাতে তাদের সংস্থা দৃঢ় সচেষ্ট।