স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: সরাসরি রাজ্যবাসীর অভাব অভিযোগ শুনতে লোকসভা নির্বাচনের পরই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘দিদিকে বলো’ প্রকল্পের কর্মসূচি। এই প্রকল্পের একটাই উদ্দেশ্যে প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলের গরীব সাধারণ মানুষদের অভাব অভিযোগ শোনা এবং দ্রুত তার সমাধানের ব্যবস্থা করা। জনসংযোগ বাড়াতে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি মানেই সবার অভাব অভিযোগ শোনা। এবং সব জায়গাতেই একই ঘটনা। নিজের সমস্যার কথা জানাতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে অনেকেই আবার ফোনও করেছেন ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির দেওয়া ফোন নম্বরে। সুরাহাও মিলেছে অনেকেরই। আবার অনেকেই কোনও সমাধান পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন।

কিন্তু দক্ষিণ দিনাজপুরের তিওড় এলাকায় ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে তার উল্টো ঘটনাই ঘটল। বাসিন্দারা কোনও অভিযোগ নয়, উল্টে কর্মসূচির শুরু থেকে শেষ শুধুই প্রশংসা আর প্রশংসা করলেন। এলাকার মানুষের একটাই কথা, প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন পুর-মন্ত্রী শংকর চক্রবর্তীর প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় শহর থেকে দূর তাঁদের সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা মিলিয়ে মোট তিনটি কলেজ উপহার দিয়েছেন। এর বাইরে ছোট ছোট অনেক কিছু না পাওয়ার থাকলেও তা নিয়ে স্থানীয়দের সেই রকম কোনও অভিযোগ নেই বলে সকলে জানিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা রামজীবনপুরে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক ও মাকিনটোশ বার্নের চেয়ারম্যান শংকর চক্রবর্তী। এদিন শংকর চক্রবর্তী অভাব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চেয়ে দিদিকে বলোর নম্বর বিলি করতে গিয়ে বাসিন্দারা এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নের ব্যাপারে ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এলাকা তথা সমাজ উন্নয়নে সবার আগে দরকার শিক্ষা। ২০১১র ভোট প্রচারে গিয়ে সেটা বিলক্ষণ বুঝেছিলেন তৃণমূলের শংকর চক্রবর্তী। আগে এলাকায় সেই ভাবে উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামো না থাকায় স্কুলের পাঠ ছাড়ার পরই এলাকার যুবকরা চোরাচালান বা অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়তেন। ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সাল নাগাদ পূর্ত দফতরের দায়িত্ব পেয়ে শংকর চক্রবর্তী এলাকার উন্নয়নের জন্য হিলিতে একটি সাধারণ কলেজ সেই সঙ্গে রামজীবনপুর ও তিওড়ে কারিগরি শিক্ষার দুটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দেন। তারপর থেকে এলাকার চিত্রটাই পালটে গিয়েছে বলে দাবি খোদ বাসিন্দাদের। আজও এলাকার মানুষ তা নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

যদিও কর্মসূচি সেরে শংকর চক্রবর্তী জানান, যে সেই ভাবে কেউ অভিযোগ না জানালেও কয়েকজন কিশোরী ও যুবতি কন্যাশ্রী এবং প্রতিবন্ধী ভাতা সহ সরকারি প্রকল্প সুবিধা গুলি নিয়মিত পাওয়ার ব্যাবস্থা করার জন্য আবেদন করেছে তাঁর কাছে।