স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ঢিলের জবাব হবে পাটকেলেই!

তিনি অসম্মান হজম করার পাত্র নন ৷ নিজে অপমানিত হলে তিনি চারগুন অপমান করবেন৷ রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে কড়া বার্তা দিয়ে রাখলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷

শাসক দলের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত লেগেই রয়েছে৷ দু-একদিন পরপরই একে ওপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগছে৷ বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরের গান্ধীঘাটে শ্রদ্ধা জানাতে যান রাজ্যপাল। সেখানে পুলিশ কমিশনারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তিনি বলেন, “আমি মঞ্চে আর আপনি খবরের কাগজে মগ্ন হয়ে আছেন৷ এটা কী ধরনের আচরণ? লজ্জা হওয়া উচিত। উর্দি পরে যদি এটা করেন, তাহলে অন্যরা দেখে কী শিখবে, কী করবে?”

এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “শিশুসুলভ আচরণ কিছু বলার নেই।” তারপরই তিনি বলেন, ” কী বলেছেন জানি না। আমি পিছনে ছিলাম। আমরা সরকারের তরফে সৌজন্য এবং নিয়ম মেনে চলছি। উনি আমাকে অসম্মান করলে, আমি চারগুণ অসম্মান করব।”

উল্লেখ্য, প্রকাশ্যে পুলিশ কমিশনারকে রাজ্যপালের ভর্ৎসনার ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাজ্যের আইপিএস মহল।রাজ্যের আইপিএস অফিসারদের স্পষ্ট বক্তব্য, “এটা চূড়ান্ত অবমাননা। আইনশৃঙ্খলার রাজ্যের বিষয়। রাজ্যপালের যদি কিছু বলার থাকে তাহলে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকে জানানোটাই প্রথা। উর্দিধারী পুলিশ কমিশনারকে এভাবে প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করতে পারেন না রাজ্যপাল। এতে সম্মানহানি হয়েছে।”

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর সাফ দাবি, “এমন কিছুই ঘটেনি। পুরোটাই ওনার পূর্ব পরিকল্পিত। তীব্র নিন্দা করছি ওনার ব্যবহারের।”

বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও বলেন, “গান্ধীঘাটে আমি ও স্বরাষ্ট্রসচিব ওনার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। অপেক্ষা করছিলাম। উনি গাড়ি থেকে নামার পর আমি ও স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক সরকারি আধিকারিক হাত জোড় করে নমস্কার করলাম। কিন্তু উনি কোনও প্রতি নমস্কার করলেন না। কোনও কথাও বললেন না। সোজা হেঁটে চলে গেলেন। তারপর বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে লাগাতার পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। যা আজকে গান্ধীজীর প্রয়াণ দিবসের সঙ্গে কোনওভাবেই সম্পর্কযুক্ত নয়। এটা প্রি প্ল্যানড।” শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, রাজ্যপালের আচরণে অপমানিত বোধ করেছেন তিনি এবং স্বরাষ্ট্রসচিব।