স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় দলের ঘোষিত লাইনের বিপরীতে হাঁটলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷ যাদবপুর কাণ্ডে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকেই দায়ী করলেন তিনি৷ সাফ জানালেন, উপাচার্য সঠিক সময়ে পুলিশকে ডাকেননি৷ উনি পুলিশ ডাকলে, ঘটনাটা এতটা বাড়ত না৷

বৃহস্পতিবার নিজের বিধানসভা এলাকা পেয়ারাডাঙায় ‘দিদিকে বলো’র প্রচার করছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। সেইসময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে যাদবপুর ক্যাম্পাস হেনস্তার ঘটনা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়৷ সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেন, পুলিশ সেদিন নীরব ছিল কেন? উত্তরে সুব্রতবাবু বলেন, ক্যাম্পাসে যেভাবে বাবুলকে হেনস্তা হতে হয়েছে, তাতে তিনি তাঁর প্রতি সমব্যথী। একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে এভাবে হেনস্তা করা যায় না। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, বাবুলের দফতর কেন আগে থেকে উপাচার্যকে তাঁর যাওয়ার কথা জানায়নি? তাহলে তো উপাচার্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে রাখতে পারতেন। ফুল বা মালা দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে পারতেন।

এরপরই সুরঞ্জন দাসকে কাঠগড়ায় তুলে এদিন সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘উনি উপাচার্য৷ ক্যাম্পাসে পুলিশ ডাকার অধিকার একমাত্র ওনার রয়েছে৷ উনি সঠিক সময়ে পুলিশ ডাকলে এতটা ঝামেলা বাড়ত না৷ আমাদের প্রশাসন তো সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই পারেনি৷ এই ঘটনায় উনি কখনওই দায় এড়াতে পারেন না৷’’ একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত পড়ুয়াদের কঠোর শাস্তির পক্ষেও সওয়াল করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী৷

গত বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির অনুষ্ঠানে গিয়ে একদল অতি বামপন্থী পড়ুয়ার প্রবল বিক্ষোভের মুখে পরেন বাবুল। ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুধু শোনেননি, বিক্ষোভকারীদের হাতে কিল, চড়, ঘুসিও খেয়েছেন। প্রায় সাড়ে ছ’ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন৷