স্টাফ রিপোর্টার, বীজপুর: লোকসভায় ধরাশায়ী তৃণমূল৷ সৌজন্যে রাজ্য বিজেপির নেতা মুকুল রায়৷ তাঁর এই সাফল্যে মুখ খুললেন ছেলে তথা বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়৷ বললেন, ‘‘বাবার কাছে হেরে আমি গর্বিত৷’’ সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ভিড় করা তৃণমূল কর্মীদের মুখে তখন মকুল রায় জিন্দাবাদ স্লোগান৷

তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের পর থেকেই শাসক দলের নিশানায় মুকুল রায়৷ তৃণমূল নেত্রী তাঁকে প্রচারের নিয়ম করে ‘গদ্দার’ বলে তোপ দেগেছেন৷ দলের কেষ্ট, বিষ্টুরাও কম যাননি৷ সুযোগ বুঝে পালটা তৃণমূলের একদা ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’ বলেছিলেন ১৯শের ডিসেম্বরের মধ্যেই রাজ্যে সরকার বদল হবে৷ লোকসভার ফলাফলে যেন তারই ইঙ্গিত৷

আরও পড়ুন: গড় বাঁচলেও অধিকারী সাম্রাজ্যে বিজেপির ভোট বাড়ায় চিন্তায় শুভেন্দু

গেরুয়া শিবিরে মুকুলকে যখন মাতামাতি ঠিক তখনই তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বাবার সাফল্য নিয়ে কথা বললেন শুভ্রাংশু৷ জানালেন, ‘‘বারাকপুর লোকসভায় বীজপুর থেকে লিড দেব বলেছিলাম৷ কিন্তু তা হয়নি৷ বাবার কাছে হেরে গিয়েছি বীজপুরে ও বারাকপুর লোকসভায়৷ বাবাকে মানুষ বেছে  নিয়েছেন৷’’

তাঁর হারার কারণও এদিন ব্যাখ্যা করেন বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক৷ সেখানে নেত্রী থেকে মন্ত্রী, চাঁচাছোলা ভাষায় বিঁধেছেন নিজের দলের সবাইকে৷ মুকুল পুত্রের কথায়, ‘‘কাঁচরাপাড়ার কাঁচা ছেলে বলে দলের কেই কেউ সমালোচনা করেছিল বাবাকে৷ কিন্তু মানুষ তা মেনে নেয়নি৷ এখানে রায় পরিবারের সম্মান রয়েছে৷ মানুষ বুঝিয়ে দিল রায় পরিবারের কাঁচা ছেলেই কাঁচা মাথায় চাণক্যের বুদ্ধি দিয়ে দল তৈরি করেছিলেন, তারপর নিজেই তা শেষ করে দিলেন৷’’

 

দল বিরোধী মন্তব্য তিনি করেননি৷ উলটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজের নেত্রী বলে দাবি করেছিলেন৷ কিন্তু প্রচারে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশুকেই ‘গদ্দারের ছেলে’ বলে মন্তব্য করে তৃণমূল নেত্রী৷ সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন বীজপুরের বিধায়ক বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়কে আমি মমতাময়ী মা বলে ভাবতাম৷ কিন্তু ওনার মুখে ওই কথা বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান৷’’

মুকুল রায় বিজেপিতে নাম লেখানোর পর থেকেই তৃণমূলে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷ তিনি কী জোড়াফুলে রয়েছেন, না দল ছাড়বেন? বিতর্ক হয় তা নিয়ে৷ শুক্রবার দলকে নিশানা করে শুভ্রাংশু রায় বলেন, ‘‘দল আমাকে বিশ্বাস করে কিনা তা বুঝতে পারছি না৷’’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘বিশ্বাস’ শব্দেই লুকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল৷

আরও পড়ুন: বাংলায় গেরুয়া ঝড়: কালীঘাটের বাড়িতে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মমতা

এতদিন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন৷ এদিন দলের প্রতি বিস্ফোরক শুভ্রাংশু৷ এটাই কী তবে দল ছাড়ার বার্তা? মুকুল পুত্রের কৌশলী উত্তর, ‘‘বাবা সহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব৷’’