কলকাতা: এর আগেও তিনি নানা জনকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন। সৌরভ গাঙ্গুলির দুরন্ত পারফরমেন্সের পর দাদাকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন সুবোধ। কিছুদিন আগে বিশ্ব চ্যাম্পিনশিপের ট্র‌্যাক ইভেন্টে সোনা জেতা হিমা দাসকে নিয়েও একটি চাবুক কবিতা লেখেন সুবোধ সরকার। এবার তিনি কলম ধরলেন সদ্য নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। রবিবার নিজের ফেসবুক দেওয়ালে তিনি লেখেন ‘অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি কে?’ নামের একটি দুর্দান্ত কবিতা। ওই কবিতায় সুবোধ লেখেন:

“ওদের এত জ্বালা কেন আপনাকে নিয়ে?
কী করেছেন আপনি?
আপনি দুটো সত্যি কথা বলেছেন
আপনি জানেন না সত্যি বলে কী হয়েছিল
গ্যালিলিওর?

একটা সত্যি
সেটা আণবিক বোমার মতো নেমে এল ভারতবর্ষে।

আমেরিকাতে যত জ্যোৎস্না ওঠে
কালাহান্দিতেও তত কোজাগরী
তবু আপনি নক্ষত্রের আলো দু’হাতে সরিয়ে
এম আই টির ক্লাসরুমে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন
পৃথিবীর সবচেয়ে গরিবের আয় দিনে ১৬ টাকা।
তাতে দু’ঠোঙা মুড়িও হয় না।

আমেরিকাতে যত জ্যোৎস্না ওঠে
বম্বের ধারাভিতেও তত জ্যোৎস্না।

আপনি জ্যোতিষ্কের আলো দু’হাতে সরিয়ে
এম আই টির ক্লাসরুমে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন
ভারতের গ্রামে গ্রামে মুদির দোকানে
মুড়ি কেনার পয়সা নেই লোকের।

আমেরিকাতে যত হেমন্তের জ্যোৎস্না ওঠে
মণিকর্ণিকাতেও তত হেমন্ত
আপনি হেমন্তের আলো দু’হাতে সরিয়ে
এম আই টির ক্লাসরুমে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন

গরিবের হাতে পয়সা দিন। আই প্রে, আই প্রে।

ওরা আটা কিনে রাত আটটায়
দুটো রুটি খেতে পেলে
আমরা সবাই বাঁচব
দেশটাও বেঁচে যাবে।

দু’মুঠো না দিয়ে যারা নক্ষত্র হোটেলে বসে খায়
তাদের তিরিশ তলা অর্থনীতি খসে পড়ে যায়।”

বোঝাই যাচ্ছে কবিতাটির মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে সুবোধের তীব্র প্রতিবাদ। অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়ার পরেই সমালোচিত হয়েছেন অভিজিৎ। বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ অভিজিৎকে অর্ধেক বাঙালি বলে মন্তব্য করেন। এখানেই শেষ নেয়। এরপর বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, স্ত্রী বিদেশি হলে নোবেল পাওয়াই যায়! রাহুলের এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সমালোচিত হয়েছে নানা মহলে। কবি শঙ্খ ঘোষ অবশ্য মনে করেন, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করা উচিৎ নয়। এই অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে সুবোধের কবিতাটি হয়ে উঠল বহু মানুষের প্রতিবাদের ভাষা।