স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লকডাউন মেনে এখন গৃহবন্দি কবি সুবোধ সরকার। সারা বছরই তাকে দেশে ও বিদেশে নানা কবিতা উৎসবে যোগ দিতে হয়। লন্ডন কিংবা নিউ ইয়র্ক থেকে কোনও কবি কলকাতায় এলে একবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে যান। পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির অফিসে নিয়মিত নিজের ঘরে বসেন সুবোধ। এছাড়াও আমহার্স্ট স্ট্রিট সিটি কলেজে অধ্যাপনার সূত্রে তিনি পড়ান বহু ছাত্রছাত্রীকে।

অবশ্য আগামী কয়েক দিন সব বাড়ি থেকে বেরনো বন্ধ। সঙ্গী শুধু কাগজ কলম। তবে ছাত্র ছাত্রীদের জন্যে তিনি একটি বার্তা পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। সেখানে তিনি লেখেন, “তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে ঘরে বসেই। পাড়ার গলিতে চায়ের দোকানে যেন চার পাঁচ জন মিলে জটলা না করে। বাড়ির পেছনে ফুটবল চললে পুলিশকে ফোন করো। লকডাউন চলছে। কাকে বলে লকডাউন? আমাদের জীবদ্দশায় এই প্রথম এত ব্যয়বহুল একটা ব্যবস্থা দেখলাম। শুধু একটা ভাইরাসকে আটকানোর জন্য লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। আমরা ঘরে আছি মানে তার জন্য সরকারকে যত টাকা (পাবলিক মানি) দিতে হচ্ছে সেই টাকায় আমরা পনেরো দিন তাজে থাকতে পারতাম।”

তবে লকডাউন উপেক্ষা করেও যে কিছু অসচেতন মানুষ রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন ও জটলা পাকাচ্ছেন সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সুবোধ বলেন, “যারা এখনো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে তাদেরকে ধরিয়ে দিন। এটা পিকনিক করার সময় নয়। রাশিয়ার পুতিন অর্ডার দিয়েছেন মস্কোর রাস্তায় সিংহ ছেড়ে দিতে। নিউ ইয়র্কের মেয়র বলেছেন আর্মি নামাতে হবে। কলকাতায় কিছু মানুষ এখনো বুঝতে পারছেন না কী বিপর্যয় তারা ডেকে আনতে পারেন। পাড়ার গলিতে বসে আজকেও যেসব মণিরত্নেরা গুলতানি মারছেন তারা পুরো পাড়াটাকে দশ দিনে নরক করে তুলতে পারেন। লকডাউন মানে লকডাউন মানে লকডাউন।”

তবে আশাবাদী কবি সুবোধ সরকার। যেমন আশার বার্তা তাঁর কবিতায় পাওয়া যায়। তিনি মনে করেন মানব সভ্যতা একদিন জয়ের গান গাইবে। আত্মপ্রত্যয়ী কবি আরও লেখেন, “গান শুনুন। সিনেমা দেখুন। টিভি দেখুন। গেম খেলুন। মানব সভ্যতায় গান এখনও লকডাউন হয়নি।”