স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রতিবাদই হয়ে ওঠে তাঁর কবিতার ভাষা। এই প্রথম নয়, এর আগেও নানান ঘটনার প্রতিবাদে কলম হাতে তুলে নিতে দেখা গিয়েছে কবি সুবোধ সরকারকে। সাহিত্য আকাদেমির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন দু’দিন আগে। দিল্লিতে গিয়ে দেখেছেন বীভৎস ছবি। বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফিরে লিখলেন একটি কবিতা। কবিতার নাম ‘দিল্লি’।

ওই কবিতায় সুবোধ সরকার লেখেন, “একদিন তোমার মেয়ে যমুনা যেতে চাইবে/ তুমি বলবে, না যাস না, যমুনা জ্বলছে। একদিন তোমার মেয়ে রাস্তা পার হতে চাইবে /তুমি বলবে, ও পারে যাস না, রাস্তা জ্বলছে। একদিন তোমার মেয়ে বিজ্ঞান ভবনে যেতে চাইবে/ তুমি বলবে যাস না ওখানে, ওটাও জ্বলছে। একদিন তোমার মেয়ে তুলে নেবে জলের গ্লাস/ তুমি বলবে, মুখে দিস না, ও জল জল নয়, বিষ। এ কোন যমুনা রেখে গেলে, বাবা?/ এ কোন জলের গ্লাস রেখে গেলে, বাবা? একদিন তুমি ভাববে, একদিন নিজেই নিজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে বলবে/ আমার মেয়েটা কোথায় গেল? সে কি যমুনায় জল আনতে গেছে?”

মণিপুরে আর্মিদের কর্মকান্ডের নিন্দা করে তিনি ‘মণিপুরের মা’ নামের একটি তীব্র কবিতা লিখেছেন। যা পরবর্তীতে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। গুজরাতে হিংসার পরেও থেমে থাকেনি তাঁর কলম। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন সুবোধ সরকার।

অন্যদিকে, গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে দিল্লির পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল হয়ে উঠছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ সাধারণ মানুষ থেকে বিশিষ্টজনেদেরও।

দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সারা দেশের মানুষও। দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।শান্তি ফিরেছে দিল্লিতে। যদিও বুধবার রাতের পর থেকে রাজধানীতে নতুন করে অশান্তির খবর মেলেনি। যদিও রবিবার থেকে চলা টানা ৩ দিন দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে এখনও পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

তিনশোর কাছাকাছি মানুষ সংঘর্ষে আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন। দিল্লি পুলিশি হিংসার ঘটনায় ৪৫টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করেছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির অলিতে-গলিতে চলছে পুলিশি টহলদারি।

উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে শান্তি ফেরাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ। চাঁদবাগে বন্ধ দোকান-বাজার খোলার অনুরোধ জানাচ্ছে পুলিশ। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয়দের এগিয়ে আসতে অনুরোধ জানিয়েছেন দিল্লির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার। এলাকায় শান্তির পরিবেশ ফেরানোর প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশকর্তা।