স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পর মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশুর সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল তৃণমূলের৷ তবে তিনি দলের বিরুদ্ধে কখনও মুখ থোলেননি মুকুল পুত্র৷ উলটে বরাবরই বলেছেন, বাবার রাজনৈতিক প্রভাব তার উপর পড়েনি৷ ধরে নেওয়া হচ্ছিল বিজেপিতে মুকুল রায়ের অবস্থা দেখে তৃণমূলেই থাকার সিদ্ধান্তে আপাতত অটল বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু৷

এই ভাবনা যখন ক্রণস পোক্ত হচ্ছে তখনই বিস্ফোরণ৷ শুভ্রাংশু সরাসরি আক্রমণ করলেন দলের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ চিঠিতে(কলকাতা ২৭x৭ চিঠির সত্যতা যাচাই করেনি) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভ্রাংশু৷ অভিষেককে শুভ্রাংশুর এই চিঠি দেওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে এখন দু’টো প্রশ্ন উঠছে৷এক, বাবা মুকুল রায়ের পরামর্শেই কী এই পদক্ষেপ বীজপুরোর তৃণমূল বিধায়কের? দুই, তাহলে কী লোকসভার আগে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন শুভ্রাংশু?

চলতি বছরের অগাষ্ট মাসে সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছিলেন-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। সেই অভিযোগের সত্যতা জানতে চেয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেককে চিঠি দিয়েছেন মুকুল পুত্র। এরকমই একটি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। যাতে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

ইংরাজিতে লেখা হয়েছে চিঠিতি৷ তবে ওই চিঠিতে কোনও লেটার হেড ছিল না৷ লেখা ছিল, “মেয়ো রোডে ১১ অগাস্ট বিজেপির তরফে একটি সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে আপনার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অবৈধ কাজকর্ম চালানোর অভিযোগ তোলা হয়। যা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অমিত শাহ বলছেন, কেন্দ্রের অনুদানের ৩ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা আপনি অপব্যবহার করেছেন। এসবকিছুর পর আমার মনে হয় আপনি ওই কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। আপনি আমাকে জানান অমিত শাহের তোলা ওই অভিযোগ সত্যি কি না। আমি আপনার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি।”

উল্লেখ্য, অমিত শাহের ওই মন্তব্যের পরে তাঁকে চিঠি দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেন অভিষেক। ক্ষমা না চাইলে মানহানির মামলারও হুমকি দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, ওই চিঠিটি ১৪ অগাস্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠান শুভ্রাংশু। কিন্তু সম্প্রতি ওই চিঠিটি প্রকাশ্যে এসেছে। চিঠিটিতে কোনও লেটার হেড নেই। চিঠির সত্যাসত্য জানতে তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশুকে এরাধিকবার ফোন করা হয় কলকাতা ২৭x৭-এর পক্ষ থেকে। কিন্তু প্রত্যাকবারই ফোন বেজে গেলেও তা ধরা হয়নি৷

এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর এক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে৷ কারণ, এবছর বিজয়া করতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন শুভ্রাংশু৷ সেখানে অভিষেকের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ তাঁর কথা হয়৷ সেখানে বেশ কিছুক্ষণ তিনি ছিলেনও৷ এমনকি শুভ্রাংশু চলে যাচ্ছে শুনে মমতাও তাঁকে ডেকে কথা বলেন৷ অনেকক্ষণ কথা হয় দুজনের মধ্যে৷ দলনেত্রীর সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছিল সেটা শুভ্রাংশু জানাননি৷ তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, লোকসভা নির্বাচনের আগে চিঠি কেলেঙ্কারিকে প্রকাশ্যে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না নেত্রী৷ নীরব থেকে এই ইস্যুতে কৌশলে বিরোধীদের অস্ত্র ভোঁতা করতে চান তিনি৷ জল্পনা বিজয়ার বৈঠকে শুভ্রাশুকে সংযত হওয়ারই বার্তা দিয়েছেন নেত্রী৷