বারাকপুরঃ  “দিদিকে বলো” কর্মসূচির জোর কদমে প্রচার করছেন রাজ্যের তৃণমূল কর্মীরা। জনসংযোগকে হাতিয়ার করে পথে নেমেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার পালটা হিসাবে বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় একেবারে নিজের এলাকায় শুরু করেছেন “ঘরের ছেলেকে বলো” কর্মীসূচি। নিজের ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে বীজপুরে এই কর্মসূচিতে নেমেছেন মুকুল-পুত্র।

শনিবার তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে পায়ে হেঁটে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে “ঘরের ছেলেকে বলো” কর্মসূচির কার্ড নিজেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করেন শুভ্রাংশু রায়। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যেই তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে তার ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া কার্ড বিতরন করেন।

তাঁর এই নতুন কর্মসূচি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে এই কর্মসূচি কি “দিদিকে বলো” কর্মসূচিকে অনুসরন করেই করছেন মুকুল পুত্র । তবে তাঁর উত্তর, “দিদিকে বলো কর্মসূচিতে যে ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে সেই ফোন কে ধরছে তার নিশ্চয়তা নেই । কারন যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই হয়ত ওই ফোন ধরবে। তাতে আখেরে লাভ কিছু হবে না। কিন্তু এখানে যে নম্বর দিয়ে কার্ড ঘরে ঘরে দিলাম, সেটা আমার ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বর। ওই নম্বরের ফোন আমিই ধরি। আমি বীজপুরের ঘরের ছেলে হিসেবে এলাকায় ২৪ ঘণ্টা থাকি। ঘরের ছেলে হিসেবে স্থানীয়দের কাছে আবদার করি। তাই তৃণমূলের সঙ্গে আমার কর্মসূচির কোন তুলনা নেই বলে মন্তব্য করেন শুভ্রাংশু।

মুকুল-পুত্র আরও বলেন, ২০১৫ সালে যে উন্নয়নের কাজ এই কাঁচরা পাড়ার বুকে শুরু হয়েছিল তা বর্তমানে থমকে আছে। আমি এখনকার চেয়ারম্যানকে বলতে চাই, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিধায়ক হিসেবে আমি এবং এখানকার সাংসদ সব সময় উনাকে সহায়তা করব। আমি উনার সঙ্গে এলাকায় একসঙ্গে বেরতেও প্রস্তুত বলে মন্তব্য তাঁর। তাও উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাবাসীর মুখে হাসি বজায় থাক।

এদিকে বিজেপি বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের এই কর্মসূচি সম্পর্কে বীজপুরের তৃণমূল নেতা তথা স্থানীয় কাউন্সিলর সুজিত দাস বলেন, “বিজেপি দলের কোন কর্মসূচি সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই। তবে দিদিকে বলো কর্মসূচি অনেক বড় বিষয়। মানুষ ওখানে ফোন করে তার সুফল পাচ্ছে । ৮০% মানুষ উপকৃত ওখানে ফোন করে । ” বিজেপি বিধায়ক মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় ঘরের ছেলে হিসেবেই এলাকায় ঘুরে বেড়ান । সাধারন মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করতেই শুভ্রাংশু রায় এবার নিজের ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে বীজপুরের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে তাদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন ।