প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলাকায় শনিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হালিশহরের কোনা কলোনী এলাকায় শনিবার সকালে স্থানীয় বীজপুর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে হালিশহর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে সি এ এর সমর্থনে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে প্রচার করছিলেন। বাড়ি বাড়ি লিফলেট দিয়ে বোঝাচ্ছিলেন সি এ এ বিষয়টা কি? অভিযোগ, সেই সময় স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা বিজেপি কর্মীদের সি এ এ নিয়ে প্রচার করতে বাঁধা দেয়। তখন বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিজেপি কর্মীরা যখন বাড়ি বাড়ি সি এ এর সমর্থনে প্রচার করছিলেন তখন পুলিশের সামনেই তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে মারপিট হয় বলে অভিযোগ উভয় দলের কর্মীদের। এদিকে এই ঘটনায় এক তৃণমূল কর্মী মারাত্মক জখম হয় বলে অভিযোগ তৃণমূলের। জখম ওই তৃণমূল কর্মীর নাম জানা গেছে সোমনাথ গাঙ্গুলি। তাকে অন্যান্য তৃণমূল কর্মীরা দ্রুত কল্যাণী জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদিকে এই ঘটনায় শুভ্রাংশু রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তৃণমূল কর্মীরা। তাদের বক্তব্য, ওই তৃণমূল কর্মীকে মারধর করা হয়েছে শুভ্রাংশু রায়ের নেতৃত্বে।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। তিনি বলেন, “শনিবার যে ঘটনা তৃণমূল কর্মীরা ঘটাল তা গনতন্ত্রের পক্ষে লজ্জা। আমাদের দলের ঘোষিত কর্মসূচি আমরা সি এ এর সমর্থনে বাড়ি বাড়ি প্রচার করছি। দলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের যখন শান্তিপূর্ণ ভাবে বাড়ি বাড়ি প্রচার চলছিল তখন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের প্রচারে বাঁধা দেয় এবং দলের কর্মীদের পুলিশের সামনেই ধাক্কা ধাক্কি করে । পুলিশ এখন রাজ্য সরকারের লাভ লেটার হয়ে গেছে। বীজপুর থানার পুলিশ তৃণমূলের কথায় কাজ করে। আসলে ওরা বিজেপির প্রচারে বাঁধা দিচ্ছে কারন, ওদের পায়ের তলায় মাটি নেই । ২০২১ এর ভোটে মানুষ এদের যোগ্য জবাব দিয়ে দেবে।

এই হালিশহর এবং বীজপুরে এখন সেই তৃণমূলের বড় নেতা যে মুকুল রায় আর শুভ্রাংশু রায়কে গালাগালি দিতে পারবে, সে রেলের ওয়াগন ব্রেকার হোক বা মস্তান হোক।” এদিকে হালিশহরে তৃণমূল ও বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ মৃদু লাঠি চার্জ করে । গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বীজপুর থানার পুলিশ ।

এদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে বীজপুরের তৃণমূল নেতা সুবোধ অধিকারী বলেন, “আমি শুনেছি বিধায়ক নিজে আমাদের দলের কর্মীকে ঘুষি মেরেছে । ওকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি । শুনলাম ওরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছিল, সাধারন মানুষ ওদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ওরা আমাদের বিরুদ্ধে কি বলছে আমি জানি না। আমরা সব প্রশাসনের উপর ছেড়ে দিয়েছি । প্রশাসন কি করবে তা প্রশাসনের ব্যাপার ।” অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়া পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ঈশ্বর দয়াল নগর এলাকায় সি এ এ সমর্থনে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার করলেন নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক সুনীল সিং । তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

সি এ এ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলগুলি নাগরিকদের ভুল বোঝাচ্ছে মানুষকে বলেও অভিযোগ করেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক। আগামী ২৭ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় সি এ এ নিয়ে কি করতে চাইছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুনীল বাবু । তিনি জানান, এই বিষয় নিয়ে তারা বিধানসভায় তৃণমূলের সি এ এ নীতির বিরোধিতা করবেন । এছাড়াও সুনীল বাবু বলেন, যেখানে রাজ্যসভা, লোকসভা এবং রাষ্ট্রপতি বিষয়টিতে সীলমোহর দিয়ে দিয়েছেন সেখানে আমার মনে হয় না রাজ্যপাল বিধানসভার তৃণমূলের পাশ করা কোন বিলে সই করবেন।