কলকাতা: ভয়াবহ সাইক্লোন আমফানের দাপটে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ যেন ধ্বংসপুরীতে পরিণত হয়েছে। কল্লোলিনী কলকাতাকে এমন রূপে দেখতে হবে তা স্বপ্নেও কল্পনা করেনি বাঙালি। ৫০০০ গাছ পড়ে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য পশু পাখির। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে মৃ্ত্যু হয়ছে ৮০ জনের। আর এমন অবস্থা দেখে ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। কিছুদিন আগেই জানিয়েছেন, তিনি মা হতে চলেছেন। আর তার মধ্য়েই ঘটে গিয়েছে এমন বিপর্যয়। তাই গর্ভস্থ সন্তানের জন্য কলম ধরলেন অভিনেত্রী। সেটি পড়ে শোনালেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

শুভশ্রী লিখছেন, মনটা বড্ড খারাপ। সারাক্ষণ চেষ্টা করছি মনটাকে ঠিক রাখার, কিছুতেই পারছি না। সবাই বলে প্রেগনেন্ট হলে হাসিখুশি থাকতে হয়, কী করে থাকব বল তো! তোর কথা ভেবেই সব ভোলার চেষ্টা করছি। কিন্তু এত ধ্বংসস্তূপ আগে কখনও দেখিনি যে। কান্না চেপে রাখতে পারছি না। নিজের মনটাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, যে না না এখন মন খারাপ করলে চলে না! ভাবছি তুই কী ভাববি! কিন্তু নিজেকে আটকে রাখতে পারছি না।

আমফানের জেরে পড়ে গিয়েছে অজস্র গাছ। এই কলকাতা যেন খুব অচেনা। তাই সন্তানের উদ্দেশে শুভশ্রী লিখছেন, তোকে গল্ফগ্রীন, সাউদার্ন এভিনিউ, ময়দানের সবুজ দৃশ্যগুলো আর দেখানো হল না। সেই বড় বড় গাছগুলো, সেগুলো তো শুধু গাছ ছিল না। ছিল হাজার হাজার পাখির বাসা। তুই দেখতে পেলি না।

একে করোনার প্রভাব। তাই লকডাউন চলছে। বার বার বলা হচ্ছিল মানুষকে ঘরে থাকতে। কিন্তু আমফানে বহু মানুষ যে ঘরই হারিয়ে ফেলেছেন। এই প্রসঙ্গে শুভশ্রী লিখছেন, ৮২ হাজার ঘর ভেঙে গেল এই ঝড়ে। কী করছে এখন সেই গৃহহারা মানুষগুলো? তারওপরে করোনার প্রভাব তো বাড়ছেই। এমনিই কম অভাব ছিল না ওদের…এখন মুখে তোলার অন্নটুকুও নেই। আশ্রয় বলতে মাথার ছাদটুকুই ছিল সেটাও উড়ে গেল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি এই মুহূর্তে ভাইরাল। বুক জল পেরিয়ে প্লেটে করে খাবার নিচ্ছে এক শিশু। চোখে জল আনা সেই ছবি নিয়েও অভিনেত্রী লিখছেন, আজকে সারাদিন একটা ছবি সোশাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করছে, বছর চারেকের একটা বাচ্চা বুক সমান জল পেরিয়ে খাবার নিতে এসেছে ত্রাণ শিবিরে। এরপরেও তোর কথা ভেবে কী করে বেশি বেশি খাই বলতো? এই তো আর কিছু বছর পরে তুইও ওর সমানই হবি। ও তো তোর মতোই। কী দোষ করেছিল ও?”

শুভশ্রীর ভয়, এই বছরটা হয়তো মানুষের কাছে প্রতিশোধ নিতে এসেছে। এতদিন প্রকৃতির উপরে মানবজাতির অত্যাচারের উত্তর দিচ্ছে প্রকৃতি। কিন্তু তাঁর বিশ্বাস একদিন এই ধ্বংসের পরে সৃষ্টি শুরু হবে। রাতের পরে দিন হবে। সব ঠিক হয়ে যাবে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প