মুম্বই: রাজ্যসভার সাংসদ এবং জি মিডিয়া গ্রুপের কর্তা সুভাষচন্দ্র ‌ মুম্বইয়ের কাফে প্যারেড অঞ্চলের বাংলো ভাড়া দিয়েছেন চিনা দূতাবাসকে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এমন প্রতিবেদন বেরিয়েছে কারণ রিয়েল এস্টেট ওয়েবসাইট স্কোয়ার ফিট এমন কথাই জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৯ জুন সুভাষ চন্দ্রের অ্যাটর্নি ভূপতি আরোতে এবং চিনের উপ-রাষ্ট্রদূত হুয়াং জিয়াং ‌চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ঘটনাচক্রে এমন একটা ঘটনা ঘটেছে গালওয়ানে ভারত-চিনের রক্ত ক্ষয়ী সংঘাতের দিন পনেরোর মধ্যে। কারণ ১৫ জুন লাদাখ সীমান্তে ভারত চিন খণ্ডযুদ্ধে কয়েকজন ভারতীয় সেনা শহিদ হয়। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই বিষয়ে জি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোন রকম প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সুভাষ চন্দ্র গোষ্ঠীর জি মিডিয়াকে বারবার জাতীয়তাবাদের আওয়াজ তুলে চিনের বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয় চিনা পণ্য বয়কটের লাইন ধরে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে। জি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সুভাষচন্দ্র হলেন এই গোষ্ঠীর ফ্লাগশিপ কোম্পানি এন্টারটেইনমেন্টের বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের নন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর।

স্কোয়ার ফিটের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এক্ষেত্রে নয় মাসের লক ইন পিরিয়ড রাখা আছে। কোন পক্ষকে এই চুক্তি বাতিল করতে গেলে তিন মাসের নোটিশ দিতে হবে। মুম্বইতে যে বাংলোটি ইজারা দেওয়া হয়েছে চিনের দূতাবাসের জন্য সেটি জলি মার্কেট ওয়ান এ অবস্থিত। এই চুক্তি মুম্বইয়ের রেজিস্ট্রেশন অফিসে নথিভূক্ত হয়েছে ২০২০ সালের ১ জুলাই। তবে এটি লেখাপড়া হয় ২৯ জুন।

চিনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে সুভাষচন্দ্রকে ৫৮.৮০ লক্ষ টাকা চেক মারফত দেওয়া হয়েছে, যাতে নয় মাসের ভাড়া এবং ফেরতযোগ্য ১৪.৭০ লক্ষ টাকা ডিপোজিট রয়েছে। ওই বাংলোর একতলায় একটি লিভিং রুম এবং একটি কিচেন রয়েছে। দোতালায় তিনটি শয়ন কক্ষ এবং একটি শিশুদের জন্য শয়নকক্ষ রয়েছে। আর তিন তলায় রয়েছে একটি বেডরুম।

রিয়েল এস্টেট ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে ওই বাংলোটির মাসিক ভাড়া ৪.৯০ লক্ষ টাকা। বাংলোটির মোট জায়গা ২৫৯০ বর্গফুট। তাছাড়া রয়েছে দুটি ঢাকা দেওয়া গাড়ি রাখার জায়গা। দুই বছরের জন্য করা এই ভাড়ার চুক্তি শুরু ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে এবং তা শেষ হচ্ছে ২০২২ সালের ৩০ জুন।

চিনা দূতাবাস এই বাংলোটি ব্যবহার করবে তাদের পরিবারসহ অফিসার ,কর্মী এবং অতিথিদের শুধুমাত্র থাকার জন্য। গাল ওয়ান উপত্যকায় ভারত চিন সংঘর্ষের ফলে দেশজুড়ে চিন বিরোধী সেন্টিমেন্ট‌ দানা বাঁধে।

কেন্দ্রীয় সরকার বেশকিছু চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে। তাছাড়া চিনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের কথা উঠে এবং দেশজুড়ে চিনা পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। সেই অবস্থায় একটি সংবাদমাধ্যমের কর্তার চিনের দূতাবাসের সঙ্গে এমন চুক্তি ঘিরে প্রশ্ন উঠবে বলাই বাহুল্য।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ