সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : শুধু কুকুর নয়। লকডাউনের জেরে বহু পশুপাখিই এখন খাদ্যের অভাবে ভুগছে। তার মধ্যে কাক চড়ুই যেমন রয়েছে। তেমন হনুমানের দলও রয়েছে। ভুগছে প্রজাপতি মথের মত পতঙ্গও। পরিবেশবিদের এমনটাই মনে হয়েছে। একটু ভাববার কথা বলছেন তিনি।

তিনি বলছেন , সুভাষ দত্ত জানাচ্ছেন, ‘কয়েকদিন ধরেই কাক ও হনুমান খাওয়ার ধরণ এবং পরিমাণ দেখে আমার কেন জানিনা মনে হচ্ছে যে বোধহয় ওরাও খাদ্য সঙ্কটে পড়েছে। পথ কুকুরদের নিয়ে দেখছি অনেকেই সোচ্চার ও উদ্যোগী হয়েছেন। আমি কিন্তু করোনার কারনে মানুষের লকডাউন হওয়ার ফলে কিছু পশু/পাখির সত্যিই অসুবিধা হচ্ছে কিনা সেটা ভেবে চিন্তিত হচ্ছি।’

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন , ”সারা বিশ্বই এখন কোরোনায় আতঙ্কিত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ। অনেকেই ভুগছেন, কেউ কেউ আবার চিন্তায় রয়েছেন, ‘যদি কিছু হয়।’ অর্থনৈতিক মন্দার কথা ভেবে কেউবা মুষড়ে পড়েছে। আমি কিন্তু সবসময়ই একটু অহেতুক, গোদা বাংলায় যাকে বলে ফালতু, বিষয় নিয়ে ভাবি। এখন অনেকে বলে যে চড়াই নাকি হারিয়ে যাচ্ছে। আমার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ বিপরীত। মাঝে মধ্যেই ফ্ল্যাটের বারান্দায় চাল খেতে আসা চড়াইয়ের কিচির-মিচিরে সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গে। কাঠবেড়ালি ও চড়াই চাল খেতে গিয়ে কেমন এলাকা দখলের লড়াই করে – তা আমি সত্যিই উপভোগ করি। ওরা যখন খেতে আসে সেই সময় বারান্দাটা একেবারে নিষিদ্ধ এলাকা করে দিই। রোজ সকালে জানালায় কাক এসে বসে। নিজের হাতে ওদের কয়েকজনকে খাওয়াতে হয়। কখনও দেখি যে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে – অর্থাৎ যেটা দিচ্ছি সেটা পছন্দের নয়। আইটেম বদলে দিই। মুখে করে আমার সামনেই জানলায় বসেই খেতে আরম্ভ করে। নোংরা করে ফেললে আমি বকুনি খাব তাই তখন ভাগিয়ে দিই। মুখে খাবার নিয়েই উড়ে যায়। রোজই প্রায় একই রুটিন থাকে। ভাত খাবার সময় ওদের জন্য প্রত্যেকটা খাবার মেখে আলাদা বাটিতে তুলে রাখি। পুরো জানালা খুলে যখন পরিবেশন করি তখন হুটোপুটি করে একসাথে খেতে গিয়ে খাবার নষ্ট করে, বকুনি তাই দিতেই হয়।’ আরও উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন , ‘গড়ে ১০/১৫ দিনে একবার করে হনুমান এসে জানলায় বসে। ওদের জন্য খেজুর/বাদাম এনে রাখতে হয়। এক হাত দিয়ে আমার একটি হাত ধরে অন্য হাত দিয়ে খাবার তুলে খায়। অপছন্দের খাবার একবারের বেশী সাধলে খেঁচিয়ে ওঠে। কয়েকদিনের জন্য বাইরে যখন যাই – জানলার ভেতরে কিছু শুকনো খাবার রেখে দিতে হয়। বেশ কয়েক বছর আগে সকালে বাজারে যাব বলে রিক্সায় ওঠবার সময় – একটা হনুমান তো এসে আমার রিক্সাতেই বসে পড়লো। কিছু খাবার দেবার পর ছুটি মিলল।’

এরা এখন প্রত্যেকেই তাদের স্বাভাবিক খাবারের পরিমানের চেয়ে বেশি খাবার খাচ্ছে। হনুমান কম সময়ন্তর বারবার আসছে তার বাড়ির জানালায়। এটাই তিনি নজর করেছেন। তাই তিনি বনদফতরের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধ করে বলেছেন, ‘বিষয়টা একটু দেখুন এবং কিছু করনীয় থাকলে জানান।’