সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : করোনা আতঙ্কের জেরে অনেক বাড়ির পরিচারক, পরিচারিকাদেরই ছুটি দেওয়া হয়েছে। সমাজের অনেক বিদ্বদজন তাদের সবেতন ছুটি দেওয়ার বার্তা জানালেও সবাই যে এমন করবেন তার কোনও গ্যারান্টি নেই , কারণ এক্ষেত্রে কোনও সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। অন্য বেসরকারি সংস্থার ক্ষেত্রে যেমন বলা হয়েছে বেতন যেন না কাটা হয় ক’জন ভাবেন পরিচারিকাদের নিয়ে। কাজে আসছো না , পয়সা কাটবো। ওঁদের নিয়ে ভাবছেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। আর্জি, বাড়ির সাফাই-কর্ম্মী ও সাহায্যকারিদের মেডিক্লেমের।

তিনি জানিয়েছেন , ‘বাড়ির সাফাইকর্মী ও সাহায্যকারিদের মেডিক্লেম করাটা খুবই জরুরী। করোনা মোকাবিলায় যাঁরা লড়ছেন তাঁদের অতিরিক্ত স্বাস্থ্যবীমার আওতায় নিয়ে আসার যে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নিয়েছেন তা খুবই বাস্তবসম্মত। এই সরকারী সিদ্ধান্তটা নাগরিকদেরও একটা বার্তা দিচ্ছে বলে আমি মনে করছি।’ একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন , ‘করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীরা লড়ছেন ঠিকই কিন্তু সাধারণ মানুষদের জনজীবন সচল রাখতে কিছু মানুষকেও ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাদের বাইরে বেরোতে হচ্ছে। যারা আমাদের সাপোর্ট স্টাফ, সংবাদ-মাধ্যমের কর্ম্মী (বিশেষ করে বৈদ্যুতিন মাধ্যম), পুলিশ ও সাফাই-কর্ম্মীদের কিন্তু ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। ওদের জন্যও বিমা-ব্যবস্থা চালু করা উচিৎ বলে আমি দাবি করছি না। এই বিষয়ে আমি আমার একটি কর্তব্য পালন করতে গিয়ে আটকে গিয়েছি বলেই এই প্রতিবেদন। দুজন লোক (ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জিনিস কেনা ও বাড়ীর সাফাইকর্ম্মী),বাইরে বেড়িয়ে কিছু কাজ করছেন – তাঁদের আমি মেডিক্লেমের আওতায় আনতে চেয়েছি।’

ইতিমধ্যেই তিনি ন্যাশানাল ইন্সিওরেন্স কোম্পানির হাওড়ার সিনিয়ার ডিভিশনাল ম্যানেজারকে অনুরোধ করেছিলেন অনলাইনে দুজনকে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার জন্য। অফিস পুরোপুরি বন্ধ তাই সদুত্তর মেলেনি। তাই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগছে, ‘সরকারী ঘোষনাগুলো কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে না তো? নইলে আমি কেন পারছি না, মাত্র দুজনের ঝুঁকি কিছুটা অন্ততঃ লাঘব করতে? মেডিক্লেম ব্যবস্থায় দেশে মোট কত মানুষ রয়েছেন তা জানিনা। তবে অনুমান করতে পারি যে এই মুহুর্তে অন্ততঃ কয়েক লক্ষ মানুষ, যারা স্বাস্থ্যবিমার অর্ন্তভুক্ত, তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা এই বিমা-ব্যবস্থার পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কেননা বিমা-কোম্পানিগুলোতো বন্ধ। ‘Claim settle’ করবে কে? জরুরি পরিষেবা হিসেবে ডাকঘর ও ব্যাঙ্ক খোলা রয়েছে। তবে বিমা-অফিসগুলো পুরোপুরি বন্ধ থাকবে কেন? প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়টা দেখার জন্য অনুরোধ পত্র পাঠিয়েছি। স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থাটা এই মুহুর্তে জরুরী একটি পরিসেবা। সেটা তাড়াতাড়ি চালু হওয়া প্রয়োজন নয় কি?’

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা