সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি দেশের জন্য কি না কি করেছেন। ব্রিটিশ যুবরাজের ভারত পরিদর্শনকে একদম নিশ্চিহ্ন করতে সেদিন বনধ ডেকেছিল কংগ্রেস। সেই অহিংস বনধকে সফল করতে তিনি কলকাতার রাস্তায় নিজে গাড়ি চালিয়ে ঘুরে বেড়ান। স্টেশন থেকে শিশু ও মহিলাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে তিনি তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেন।

নলিনীকান্ত সরকারের আত্মজীবনী, ‘আসা যাওয়ার মাঝখানে’ দ্বিতীয় খন্ডে সুভাষ চন্দ্রের এই ঘটনার উল্লেখ মেলে। ঘটনাটি কেমন? নলিনীকান্ত সরকার লিখেছেন, ‘তারিখটা ১৬ই জুলাই ১৯২১। সুভাষচন্দ্র বসু বিলেত থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। আই.সি.এস. পরীক্ষা দেবার জন্য তাঁর বাবা তাঁকে বিলেতে পাঠিয়েছিলেন। পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অধিকার ক’রে উত্তীর্ণ হয়েও তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ বহুজনকাম্য আই. সি. এস পদ প্রত্যাখ্যান করলেন। তিনি বোম্বাই বন্দরে নেমেই সরাসরি মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন।’

এরপর তিনি লিখছেন , ‘মহাত্মা গান্ধী তাঁকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের সঙ্গে মিলিত হয়ে দেশের কাজ করবার পরামর্শ দিলেন। এদিকে ইংলণ্ডের যুবরাজ প্রিন্স অব্‌ ওয়েলস আসছেন তাঁর জমিদারী ভারতবর্ষ পরিদর্শনে। ১৭ই নভেম্বর ১৯২১ তিনি বোম্বাই বন্দরে পদাপর্ণ করবেন। সরকারপক্ষ যুবরাজের যথোপযুক্ত অভ্যর্থনার জন্য যেমন উদ্যোগী হয়েছেন, কংগ্রেস কর্তৃপক্ষও তেমনি এই রাজকীয় অভ্যর্থনা বর্জনের জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে উঠলেন।’

যুবরাজের আগমনের দিন কলকাতায় দোকানপাট যানবাহন-চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। কেবলমাত্র একটি গাড়ি নিয়ে সুভাষচন্দ্র চলেছেন হাওড়া স্টেশন অভিমুখে। গাড়ির সম্মুখে বড় বড় হরফে লেখা ‘ON NATIONAL SERVICE’। হাওড়া স্টেশন থেকে শিশু ও স্ত্রীলোকদের গাড়িতে তুলে নিয়ে তিনি তাঁদের নিজ নিজ বাসভবনে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। এ রকম সুনিয়ন্ত্রিত সুশৃঙ্খল হরতাল কলকাতায় এর আগে দেখা যায় নি।’

এরকমই এক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন ১৯২৮ সালে। পার্কসার্কাস ময়দান থেকে ফোর্ট উইলিয়ামসের উদ্দেশ্যে নেতাজি নিজে ঘোড়ায় চড়ে গিয়েছিলেন। পিছনে সেনার বেশে বেঙ্গল ভলেন্টিয়ারসের ২০০০ সৈন্য। চমকে গিয়েছিল ব্রিটিশ, চমকে গিয়েছিল কংগ্রেস। ভারতের নিজস্ব সেনা গড়ার কাজ যে তিনি করতে শুরু করে দিয়েছিলেন সেদিনকেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন সুভাষ। আর সেই ইতিহাসের সঙ্গেই মিলে যায় শ্যামবাজারের মোড়ে নেতাজীর ঘোড়ায় চড়া মূর্তির গল্প। যদিও সেই মূর্তি তৈরি হয়েছিল সাহেব আউট্রামের আদলে কিন্তু ইতিহাসের সঙ্গে বেশিই মেলে এই ঘটনাই।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা