কলকাতা: আবার ময়দানে ফিরলেন সুভাষ ভৌমিক৷ দু’বছরের বেশি সময় পর টালিগঞ্জ অগ্রগামীর কোচ হিসেবে ক্যামব্যাক করলেন ময়দানের প্রিয় ‘ভোম্বলদা’৷ অনুশীলনে নেমে আশিয়ান জয়ী কোচের সেই পুরনো মেজাজ, ‘মাত্র তিনটে ম্যাচ খেলেছে আমার টিম৷ হেরেছে মাত্র একটা ম্যাচ৷ তাতেই এত ‘গেল গেল’ রব তোলার কী হয়েছে?’

বুধবার সকালে টানা বৃষ্টিতে টানা দু’ঘণ্টা অনুশীলনে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন৷ পরখ করে নিলেন টালিগঞ্জ ফুটবলারদের৷ দু’বছর পর কলকাতা ময়দানে হেড কোচ হয়ে ফিরলেন সুভাষ৷ বছরদুয়েক আগেই এই টালিগঞ্জ অগ্রগামীর কোচ হয়েছিলেন৷ তখন প্রিমিয়র ডিভিশনে টালিগঞ্জের পকেটে ছিল মাত্র ১ পয়েন্ট৷ এবার তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট৷ তাই তিনবারের আই লিগজয়ী কোচ বললেন,‘তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট খারাপ তো নয়৷’

অনুশীলনে নেমে প্রথমেই প্রিয় ছাত্র দীপক মণ্ডলকে ডেকে নেন সুভাষ৷ তাঁর সঙ্গে বেশ কিছু সময় কথা বলার পরে দীপককেই টিমের সামনে বক্তব্য রাখতে বলেন৷ শুক্রবারই রেনবোর বিরুদ্ধে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নামবে টালিগঞ্জ অগ্রগামী৷ পরে এ প্রসঙ্গে সুভাষ বলেন, ‘দীপক এই দলে অন্যতম সিনিয়র ফুটবলার৷ তাই টিমের হয়ে ওকে কিছু বলতে বলেছিলাম৷ ফুটবলারদেরও বললাম হতাশ হওয়ার কিছুই হয়নি৷’

নিজের টিম নিয়ে টালিগঞ্জ কোচের বক্তব্য, ‘টিম মোটেও খারাপ নয়৷ এগিয়ে যাওয়ার ছন্দটা পেলেই এই দলটা বদলে যাবে৷’ দু’বছর পর ফের কোচ হিসেবে মাঠে নামা প্রসঙ্গে সুভাষ ভৌমিক এর সঙ্গে যোগ করেন, ‘এ রকম চ্যালেঞ্জ জীবনে অনেক বার নিয়েছি৷ এ বারও নিলাম৷ দেখা যাক না লিগের শেষে কী হয়? লিগ টেবলে টালিগঞ্জের নিচেও তো চারটে টিম রয়েছে৷’ কেন আবার মাঠে ফিরলেন? আশিয়ানজয়ী কোচ হাসতে হাসতে জবাব দেন,‘এমন একজন মানু্য আমায় অনুরোধ করেছেন যে তাঁকে আমি কখনই ফেরাতে পারি না৷ তাঁর কথাতেই দায়িত্ব নিলাম৷ আর ময়দানে ফিরতে তো আমার সবসময়ই ভাল লাগে৷’ আসলে টালিগঞ্জের কোচ হওয়ার জন্য সুভাষ ভৌমিককে অনুরোধ করেছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস৷ ক্রীড়ামন্ত্রীর অনুরোধ ফেরাতে পারেননি তিনি৷

তবে সুভাষের মাথায় এখন শুধুই ৩ সেপ্টেম্বর মোহনবাগান ম্যাচ৷ যে দলের কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী তিন বছর আগে মোহনবাগানেই সুভাষ ভৌমিকের সহকারী হিসেবে কোচিং শুরু করেছিলেন৷ সেই ম্যাচ সম্পর্কে জানতে চাইলে সুভাষ ভৌমিক বলছেন, ‘শঙ্কর ভাল কাজ করছে৷ বড় দলের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে রেনবো ম্যাচ নিয়েই ভাবছি আপাতত৷’