কোচবিহার: গুলিবিদ্ধ ছাত্র নেতা মাজিদ আনসারির দেহ পৌঁছতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা৷ উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারে৷ অভিযোগ, বৃহস্পতিবার তৃণমূল নেতা মুন্না খানের বাড়িতে হামলাও চালানো হয়৷ তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়৷ ঢিলের আঘাতে আহত হন মুন্না খানের দাদা মহম্মদ সেলিম৷ পরে কোতোয়ালি থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বুধবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় কোচবিহার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৃণমূলের ছাত্রপরিষদ নেতা মাজিদ আসসারির। গত ১৩ জুলাই কলেজে বহিরাগতদের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা বাধে। এরপর তিনি যখন বাড়ি ফিরছিলেন কোচবিহার শহরের রেলঘুমটি এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা৷

আরও পড়ুন:গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে গুলিবিদ্ধ কলেজ ছাত্র

অভিযুক্তরা সকলেই কোচবিহার কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। মাজিদের পরিবারের তরফে আগেই কোতোয়ালি থানায় সাতজনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল৷ আর এই ঘটনায় দুষ্কৃতীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মুন্না খানের বিরুদ্ধে। ঘটনার ১৩ দিন হয়ে গেলেও কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ ছড়ায় কোচবিহারে। এরইমধ্যে মাজিদ আনসারির মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কোচবিহার শহর ও শহর সংলগ্ন এলাকায় ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় ছাত্ররা।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দাবি এই ধর্মঘট তারা ডাকেনি। সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরাই এই ক্লাস বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন। শুক্রবারও কোচবিহার শহর ও সংলগ্ন এলাকায় বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার কোচবিহার কলেজে দোষীদের গ্রেফতাদের দাবিতে ধর্নায় বসে ছাত্র ছাত্রীরা৷ ২ নম্বর কালীঘাট রোড অবরোধ করে তাঁরা। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে কলেজ গেটে ধর্না চলাকালীন নিজের হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টাও করে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রিয়া নন্দী।

আরও পড়ুন: HIV আক্রান্ত রোগী ফিরিয়ে দিল রায়গঞ্জ হাসপাতাল

বাড়িতে হামলার বিষয়ে মুন্না খান অবশ্য অভিযোগ তোলেন যুব নেতা অভিজিৎ দে ভৌমিক এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা কার্যকরী সভাপতি সায়নদীপ গোস্বামীর বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, এই দুই নেতার নাম করে স্লোগান দিতে দিতেই হামলাকারীরা তাঁর বাড়ির দিকে পাথর ও ইট ছোড়ে৷ তাঁর দাবি, কলেজে তোলাবাজি চালাচ্ছে এই ছাত্র নেতারা৷ তাঁর ফলেই মাজিদ আনসারির মৃত্যু৷

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা কার্যকরী সভাপতি সায়নদীপ গোস্বামীর দাবি, এলাকার মানুষ উত্তেজিত হয়ে মুন্না খানের বাড়িতে হামলা চালায়৷ এই ঘটনায় তাঁরা কোনওভাবেই জড়িত নয়। এদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে মাজিদের মৃতদেহ পুলিশসুপারের দফতরের সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবি করা হয়।