স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া : হিঙ্গলগঞ্জের আম্ফান বিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াল উলুবেড়িয়ার স্বেচ্ছাসেবীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা: কৌশিক,আবুল,সাইফুলদের কেউ কলেজ পড়ুয়া আবার কেউবা সদ্য চাকরিতে যোগ দিয়েছে।ওরা প্রত্যেকেই কমবেশি সম মানসিকতার।ওদের লক্ষ্য মানুষ হিসাবে মানুষের সুখে-দুঃখে,আনন্দ-বিরহে,সাফল্য-ব্যর্থতায় সাথী হওয়া।তা-ই ওয়াশিমের মতো বেশ কিছু উদ্যোমী যুবক উলুবেড়িয়ার বুকে গড়ে তুলেছে ‘উলুবেড়িয়া সমাজবন্ধু’ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

গ্রামীণ হাওড়ার এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাদের পথচলা শুরু করল সুন্দরবনের আম্ফান বিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে।স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির বেশ কয়েকজন সদস্য গত কয়েকদিন আগে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল উত্তর ২৪ পরগণার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের কুমীরমারি নামক প্রত্যন্ত এলাকায়।উলুবেড়িয়ার এই সংস্থাটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ৩০০ পরিবারের হাতে চাল,ডাল,নুন,সোয়াবিন,স্যানিটারি ন্যাপকিন,মশারি তুলে দেওয়া হয়।অন্যতম উদ্যোক্তা সেখ ওয়াশিমের কথায়,”গৌড়েশ্বর নদীর বাঁধ ভেঙে কুমিড়মারির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন।গ্রামসড়ক যোজনার সিমেন্টের উঁচু রাস্তার দু’ফুট উপর দিয়ে বয়ে যায় গৌড়েশ্বরের জল।আম্ফানের তান্ডবের টাটকা চিহ্ন এখনো চারিদিক জুড়ে।সব হারিয়ে কুমিড়মারির মানুষ আজ নিঃস্ব।তবু ওরা লড়াই চালায়।ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে।সেই মানুষগুলোর সঙ্গী হতেই আমাদের এই প্রয়াস।”

দীর্ঘ লকডাউনের জেরে কাজ হারানো বহু মানুষের সঙ্গী হয়েছে উলুবেড়িয়ার আরও এক তরুণ-তরুণীর সমন্বিত ‘চারণ দল’ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। লকডাউনে ৩২০ টি দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার পাশাপাশি,বেশ কিছু পড়ুয়ার সঙ্গী হয়েছে এই স্বেচ্ছাসেবীরা। সুপ্রিয়,অভিজিৎ,বর্ণালীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমফানের তান্ডবে ভেঙে পড়া গাছের পাশেই বসিয়েছে নতুন প্রাণ,আবার করোনা আবহে সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে রোগ প্রতিরোধকারী সাড়াজাগানো হোমিওপ্যাথি ওষুধ।সংস্থাটির অন্যতম সদস্য উলুবেড়িয়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সৈকত নাথের কথায়,”আমরা প্রায় প্রত্যেকেই শিক্ষার্থী। নিজেদের হাত খরচ বাঁচিয়ে আমরা এধরণের উদ্যোগে সামিল হয়েছি।সমাজের স্বার্থে আমাদের এই লড়াই চলবে।”

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।