স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ফুল ফুটুক বা নাই ফুটুক আজ বসন্ত৷ সরস্বতী পুজো মানেই বাঙালির কাছে ‘হলুদ বসন্ত’ বা ‘ভ্যালেনটাইন ডে’৷ ঐতিহ্যশালী বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য এই চেনাছকের মধ্যে পড়ে না৷ সরস্বতী পুজোর পরের দিন ছাত্রাবাসে দল বেঁধে হাজির হয় ছাত্রীরা৷ পরস্পর পরস্পরকে তত্ব আদানপ্রদান করে৷

রীতিমতো রাঙায় মোড়া স্ট্রবেরি, কাজু, কিসমিসের সঙ্গে থাকে চকোলেট, চিপস, কুরকুরে। যেন বিয়ের বাড়ির আসর! আর সবকিছু ছাপিয়ে থাকে ভালোবাসার অর্ঘ্য। কয়েক মুহূর্তের জন্য তাঁরা ছাত্রদের সঙ্গে প্রবেশ করে ছাত্রাবাসে৷ সেখানে অবশ্য বাইরের কারও ঢোকায় মানা! ছবি তোলাও নিষিদ্ধ৷ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এই রীতি৷ ফলে এখানে ফি-বারই কার্যত ভ্যালেনটাইন ডে পালিত হয় সরস্বতী পুজোর পরের দিন৷

সরোজিনী, গার্গী, প্রীতিলতা, মীরাবাই, নিবেদিতা, বাবু জগজীবনরাম- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই রয়েছে এই ৬টি ছাত্রী নিবাস৷ রবীন্দ্র, অরবিন্দ, বিবেকানন্দ, চিত্তরঞ্জন, নেতাজি, আইনস্টাইন- রয়েছে ৬টি এই ছটি ছাত্রাবাসও৷ বিশেষ এই দিনকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই তরুণ-তরুণীরা পরস্পরের মন রাঙিয়ে আরও একটু কাছে আসার চেষ্টা করেন৷ এই বিশেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাক্ষী থাকে প্রেমিক প্রেমিকাদের চোখে চোখে কিংবা ইশারায় কথা বলার স্মৃতির। যাঁরা একটু সাহসী তাঁরা অন্যদের চোখ এড়িয়ে একটু ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না৷ কেউ বা হাতে হাত রেখে আজীবন একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকারও করে ফেলে৷

পড়ুয়ারা জানাচ্ছেন, সরস্বতী পুজোর দিন পাঞ্জাবি চড়িয়ে ঝারি মারার পরদিন যেন সেই প্রেম নিবেদনের মোক্ষম মুহূর্ত৷ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রীতিতে অবশ্য ছেদ পড়েনি৷ ফি-বারের মতো এবারও ছাত্রীবাস থেকে মেয়েরা সুসজ্জিত হয়ে দল বেঁধে তত্ত্ব হাতে নিয়ে হাজির হয়েছিল ছাত্রাবাসগুলিতে। ফুলে ফুলে বরণ করা হয় সর্বসমক্ষে। এরপর তারা চলে যায় আবাসের ভেতরে। সেখানে সাধারণের যেতে মানা। ভেতরে কি হয় তাও বলতে মানা! তবে এসবই ছাত্রাবাসের অন্দরমহলের কথা। নিজেদের মধ্যেই সযত্নে গোপনীয় করে রাখা। ক্যামেরাবন্দি হতে অনীহা। তাই ছাত্রাবাসগুলিতে এদিন মোবাইলেও ছবি তোলায় থাকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।