প্রতীকি ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নির্দিষ্ট পোশাক না-পরে যাওয়ায় খুলে নেওয়া হল ছাত্রীদের প্যান্ট! এমন ঘটনাই ঘটল রবিঠাকুরের শান্তিনিকেতনে। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিনিকেতন থানার অন্তর্গত একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে। মঙ্গলবার ঘটনার কড়া নিন্দা করেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এমন ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে নানা মহলে। বাংলার বুদ্ধিজীবী মহল কড়া সমালোচনা করেন।

পড়ুন আরও- শান্তিনিকেতনে ছাত্রীদের প্যান্ট খুলে নিলেন শিক্ষিকা , রিপোর্ট চাইলেন ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী

অধ্যাপক মীরাতুন নাহারের মতে, ঘটনাটি নিন্দাজনক। তবে, একই সঙ্গে প্রায় তিরিশ জন ছাত্রীর ইউনিফর্ম না-পরে স্কুলে যাওয়াটাও সমান অন্যায়। তিনি kolkata24x7-কে বলেন, “বাচ্চাদের অত্যন্ত লজ্জাজনক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয়েছে। ইদানীং শিক্ষকরা ছাত্রদের ওপরে শারীরিক নিগ্রহ করতে কিছুটা দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছে। কারণ, এর জন্য প্রবল সমালোচনার মুখে তাঁদের পড়তে হয়। শিক্ষক সমাজ মনে করছে চড়-থাপ্পড়, বেতের দিয়ে মারা, শরীরের ওপরে অত্যাচার করা বারণ।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যে ঘটনাটা জানতে পেরেছি, সেখানেও কিন্তু শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে। আসলে এটা একটা মানসিক নির্যাতন। ছাত্রীদের পোশাক খুলে নিদারুণ লজ্জায় ফেলা হয়েছে। এই ধরনের মানসিক নির্যাতন করে কিছু শেখানো যায় না। শিক্ষকরা যদি মনে করেন ছোটদের আত্মসম্মান বোধ নেই– তাহলে ভুল। ছোটদের প্রবল আত্মমর্যাদা বোধ আছে। সেই আত্মমর্যাদায় ঘা দিয়েছে এই শ্রেণী শিক্ষিকা। যে শিক্ষক এমনটা করতে পারেন– তাঁর নিজেরই আত্মমর্যাদা বোধ নেই বলে আমার মনে হয়েছে।”

এই ঘটনা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনও। গোটা ঘটনা জানতে চেয়ে বীরভূমের জেলাশাসককে চিঠি দিচ্ছে কমিশন। শান্তিনিকেতনের মকরমপুরের ওই বেসরকারি স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক দিন আলাদা আলাদা রঙের ইউনিফর্ম পরতে হয় । এই নিয়ম অনুযায়ী সোমবার যে রঙের ইউনিফর্ম পরার কথা তা পরেনি প্রাইমারি সেকশনের জনা তিরিশের ছাত্রী।

অভিযোগ, সেই কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীদের লেগিন্স খুলে নেয়। শুধু তাই নয়, এদিন এই অবস্থাতেই ওই ছাত্রীদের ক্লাস করতে হয় বলে অভিযোগ। তারপর সেভাবেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ওই পড়ুয়ারা নাকি স্কুলের ইউনিফর্ম পরে আসেনি। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে বীরভূমের বোলপুরে। প্রিন্সিপ্যালকে সরানোর দাবিতে আজ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা।