স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: শুরু হয়ে গিয়েছে সারা বাংলা জুড়ে উৎসবের মরশুম। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শুরু হয় দুর্গা পুজো দিয়ে আর এই উৎসবের মরশুম খাতায় কলমে শেষ হবে ভাইফোঁটা দিয়ে। সুতরাং বাঙালি মহালয়ার পর থেকেই চালু করে দিয়েছে ফেস্টিভ মুড। এই উৎসবের আনন্দে যখন আমবাঙালি নিম্মজিত থাকে তখন কোথাও না কোথাও অনেকেরই পুরনো জামা পরে পুজো কাটাতে হয়। হয়ত ওদেরও আর পাঁচটা বাচ্চার মত নতুন পোশাক পরে বাবা-মায়ের সঙ্গে হাত ধরে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে ঠাকুর দেখার বাসনা থাকে মনে।

দারিদ্যের কারনে তাঁদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। সারা বছরের মত পুজোর পাঁচটা দিনও ওরা অবহেলিত থেকে যায়। ওদের কথা যে ভাবার কেউ নেই।

কিন্তু এবার ওই সব খুদে গরীব শিশুদের কথা ভাবতে এগিয়ে এল হলদিয়ার বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়ারা। জানা গিয়েছে, পুজোর পাঁচটা দিন ওই গরীব বাচ্চাগুলি যাতে অন্যদের মত নতুন জামা পরে আনন্দে কাটাতে পারে তার জন্য তারা ওইসব খুদে শিশুদের জন্য বাবা-মায়ের দেওয়া স্কুলের হাত খরচ বাঁচিয়ে সেই জমানো টাকা দিয়ে বাচ্চাদের জন্য নতুন পোশাক কিনে এনে বুধবার তাঁদের হাতে তুলে দিল পড়ুয়ারা।

ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ না থাকায় বাচ্চাগুলির বাবা-মা হয়ত তাঁদের পরনে নতুন জামা তুলে দিতে পারেনা। তাইতো স্কুল পড়ুয়াদের থেকে নতুন জামা উপহার পেয়ে খুশিতে মুখে হাসি ফোটে ওদের। ওদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আপ্লুত পড়ুয়ারাও।

জানা গিয়েছে, ওদের কেউ পড়ে প্রথম শ্রেণীতে, আবার কেউবা নবম, আবার কেউ দ্বাদশ শ্রেণীতেও পড়ে। ওদের প্রত‍্যেকেই নিজের পরিবার পরিজন, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পেয়েছে পুজো উপলক্ষ্যে নতুন জামাকাপড়। কিন্তু পুজোতে নতুন জামাকাপড় পেলেও ওদের মনের মধ্যে থেকে গেছে কোনো এক না পাওয়ার বেদনা। কারন, প্রত্যেকদিন যখন ওরা স্কুলে আসে তখন স্কুলের আশেপাশে দেখে গরিব দুঃস্থদের দুঃখে ভরা জীবন যাপনের অবস্থা।