স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শর্তসাপেক্ষে পরীক্ষায় বসা যাবে কিন্তু শাস্তি মুকুব হয় নি। তাই অনশন অব্যাহত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ও সাসপেন্ড হওয়া ছাত্রেরা গত ২ এপ্রিল থেকে অনশনে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ টাউন ক্যাম্পাসের মূল গেটের সামনে। গত শনিবার ওই ছাত্রদের কথা ভেবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাসে সাংবাদিক সম্মেলনে অবতীর্ণ হন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সেখানে জানান হয়, পূর্ব সিদ্ধান্ত মতই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিষ্কারের নির্দেশ বহাল থাকবে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে যাদের নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তারা তাদের বহিস্কারের সময়সীমা শেষ হলে কেবলমাত্র পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে প্রবেশ করতে পারবে এবং যাদের পাঠ্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে না তারা বহিস্কারের সময়সীমা শেষ হলে শর্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠনে অংশ নিতে পারবে।

 

সাময়িকভাবে বরখাস্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে যাদের নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে তারা পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারবে এবং যাদের হচ্ছে না তারা নতুন শিক্ষাবর্ষ (১৯ জুলাই) থেকে শর্তসাপেক্ষে স্বাভাবিক পঠনপাঠনে অংশ নিতে পারবে। কিন্তু কোন ভাবেই আর হোস্টেলে ঢুকতে পারবেন না কিংবা পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তেই অনশনে অনড় শাস্তিরত ছাত্রেরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন কারা চালাবেন, তা নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ টাউন ক্যাম্পাসে ক্লাস চলাকালীন দু’পক্ষের ছাত্রদের মধ্যে তুমুল মারপিট হয়। ঘটনায় শনিবার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহম্মদ আলি বলেন, ‘‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, যে সব ছাত্রেরা ক্লাসে ঢুকে কয়েকজন ছাত্রকে বেধড়ক মেরেছিলেন, তাঁরা অতীতেও একই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। ক্যাম্পাসে অরাজকতা চালানোর জন্য তাঁরা জেলেও গিয়েছেন। অতীতে ক্ষমা চাওয়ায় তাঁদের শোধরানোর যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বারবার অন্যায় করলে মাফ করা সম্ভব নয়।’’ তাঁর কথায়, ‘‘ওঁদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শর্তসাপেক্ষে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যদিও আগামী দিনে তাঁরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় বসতে পারবেন না। পাশাপাশি ছাত্রাবাসেও থাকতে পারবেন না।’’

সাংবাদিক সম্মেলনে উপাচার্যের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী সমিতির এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে অনশনকারী ছাত্রেরা লাগাতার আন্দোলন চালানোর হুমকি দেন। এক অনশনকারী ছাত্র গিয়াসুদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘‘শাস্তি মকুবের দাবি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন চালানো গণতান্ত্রিক অধিকার। এটা খর্ব করা মানে আমাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া।’’

অন্য অনশনকারী ছাত্র খিলাফত হোসেনের কথায়, ‘‘ছাত্র আন্দোলনকে নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ অরাজকতা বজায় রাখতে চায়। পরীক্ষায় বসার জন্য যে শর্ত আরোপ করা হচ্ছে তা মানা যায় না।’’ তারা চান পুরোপুরি ভাবেই শাস্তি মুকুব হোক।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন কারা চালাবে, সেই নিয়ে ছাত্রদের দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট হয়। ওই ঘটনায় কয়েক জন ছাত্র জখমও হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহম্মদ আলি বলেন, ‘‘কারা গোলমাল পাকিয়েছে, তা ফুটেজ দেখে আমরা জানতে পারি। এর পরে বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পাঁচ জনকে বহিষ্কার ও ন’জনকে দু’বছরের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’’

অনশনকারী ছাত্র গিয়াসউদ্দিন জানান, তাঁদের শাস্তি পুরোপুরিভাবে মুকুব করা না হলে তাঁদের এই অনশন চলবে। তাঁদের মধ্যে থেকে ৩ জন ছাত্র আমরণ অনশন করবেন এবং বাকিরা রিলে অনশন করবেন। আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউটাউন ক্যাম্পাসের অনশন স্থলে দুপুর তিনটেয় গন কনভেনশনের ডাক দিয়েছেন তাঁরা।