কোচবিহার: ঐতিহ্যশালী স্কুল৷ সেই স্কুলেরও রঙ নীল-সাদা করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ কিন্তু ছাত্ররা তা কোনওভাবেই মানতে নারাজ৷ প্রতিবাদে পথে নামলেন স্কুলের বর্তমান, প্রাক্তনীরা৷ মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনা৷ স্কুলের রং ঐতিহ্যশালী টেরাকোটা রঙ ও হলুদ রঙের ছিল৷ কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা বদলে নীল সাদা করায় পথে নামল বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা৷ বৃহস্পতিবারই তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দেয়৷ পাশাপাশি পুরনো রঙ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে জেলাশাসক ও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকেও স্বারকলিপি জমা দেয় ছাত্ররা৷

ছাত্রদের দাবি, এইভবে স্কুলের রঙ বদলে স্কুলের ঐতিহ্যকে নষ্ট করা হচ্ছে৷ পুরোনো রঙ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা৷ স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ছাত্রদের দাবি নিয়ে আলোচনা করা হবে৷ তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷

আরও পড়ুন: অধীর চৌধুরী আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না, দাবি হুমায়ুনের

১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ উচ্চবিদ্যালয়৷ এখনও শতবর্ষ পূর্ণ না হলেও ঐতিহ্যের নিরিখে কোচবিহারের অন্যতম সেরা বিদ্যালয় এই নৃপেন্দ্রনারায়ণ৷ এক সময় সুইডিশ মিশন নাম ছিল এই স্কুলের৷ পরে নাম বদলে হয় কোচবিহারের রূপকার মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের নামে৷

দীর্ঘদিন ধরেই কোচবিহারের ঐতিহ্য মেনে এই স্কুলটির রং ছিল টেরাকোটা ও হলুদ রঙ৷ কিন্তু সম্প্রতি স্কুলের সেই পুরনো রঙ মুছে নীল সাদা করা হয়েছে৷ স্কুলের রঙ বদলের সেই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ স্কুলের বর্তমান পড়ুয়া ও প্রাক্তনীরা৷

আরও পড়ুন: বিজেপি একটা জঙ্গি সংগঠন! হুঁশিয়ারি মমতার

এদিন প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্ররা স্কুলের রঙ বদলের প্রতিবাদে পথে নামেন৷ তাঁদের বক্তব্য, এটা স্কুলের ঐতিহ্যকে নষ্ট করছে৷ স্কুলকর্তৃপক্ষকে স্বারকলিপি জমা দেন তাঁরা৷ পরে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ও জেলাশাসককেও স্বারকলিপি জমা দেন৷

স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র মণীষ দে বলেন, ‘‘স্কুলের পুরনো রঙ ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত৷ এইভাবে রঙ বদল আমরা মেনে নেব না৷ দাবি মানা না হলে এই আন্দোলন চলবে৷’’ এই বিষয়ে স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘‘আমিও এই স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র৷ তাই এখানকার ছাত্রদের আবেগ বুঝি৷ কিন্তু সরকারি নির্দেশে আমাদের এই রঙ করতে হয়েছে৷ এরপর পরিচালন কমিটি বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে৷’’

আরও পড়ুন: বিজেপির শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিন পালনে নির্দেশ মমতার সরকারের

তবে ছাত্ররা স্কুল কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছেন৷ তার মধ্যে স্কুলের হৃতগৌরব ফিরিয়ে না আনা হলে বড়সড় আন্দোলেন নামার হুমকিও দিয়েছেন প্রতিবাদী ছাত্ররা৷

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।