নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী অসম সফরে গেলে পথে নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে সামিল হবে অসমের একাধিক সংগঠন৷ এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অরগানাইজেশন এবং অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের উপদেষ্টা৷ ফেব্রুয়ারি মাসে অসমে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ অনুষ্ঠিত হবে৷ সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অসমে গেলে ফের প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি ছাত্র সংগঠনের৷

নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে দেশের মধ্য়ে সর্বপ্রথম বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে উত্তর পূর্বের রাজ্য অসমে৷ পথে নেমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধএ প্রতিবাদ-আন্দোলনে সামিল হয় অসমের একাধিক সংগঠন৷ পড়ুয়াদের বিভিন্ন সংগঠন অবরোধ-বিক্ষোভে সামিল হয়৷ কয়েকদিন ধরে অসমের বিভিন্ন শহরে কেন্দ্রবিরোধী প্রতিবাদ-আন্দোলন চরম আকার নিতে শুরু করে৷ দফায় দফায় চলে রাস্তা ও রেল অবরোধ৷ রাস্তা ও রেললাইনে টায়ার জ্বালিয়ে চলে অবরোধ৷ আন্দোলনের নামে তাণ্ডবও চলে গুয়াহাটি, দিসপুর, জোড়হাট, বঙ্গাগাঁও-সহ একাধিক শহরে৷

একের পর এক বাস, গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম দশা হয় অসম পুলিশের৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে অসমে সেনা মোতায়েন করা হয়৷ একইসঙ্গে অসমবাসীকে শান্তি হতে আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷

এদিকে ফেব্রুয়ারি মাসে গুয়াহাটিতে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হত চলেছে৷ মঙ্গলবার দিল্লিতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অরগানাইজেশন এবং অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল কুমার ভট্টাচার্য জানান, ৯ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত গুয়াহাটিতে খেলো ইন্ডিয়া যুব অনুষ্ঠান হবে৷ সংগঠনের তরফে যদিও সেই কর্মসূচিতে কোনও বাধা দেওয়া হবে না৷ কিন্তু সেই সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী গুয়াহাটিতে গেলে তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে৷

অসমের এই দুই ছাত্র সংগঠনের মতে, নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা হলে উত্তর-পূর্বের এলাকায় বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ভরে যাবে৷ ফলে ভূমিপুত্ররাই বিপাকে পড়বেন৷ নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে পড়ুয়াদের ওই দুই সংগঠন৷