সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: মোদী বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল রানি রাসমনি অ্যাভিনিউ। পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়েছে। মিলেনিয়াম পার্কের অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে সোজা সেখানেই গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার কলকাতায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তাঁর এই সফর ঘিরেই কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় সারাদিন ধরে চলেছে মোদী-বিরোধী বিক্ষোভ। যাদবপুর থেকে ডোরিনা ক্রসিংয়ের দিকে যায় ছাত্রদের সেই বিক্ষোভ। আর সেখানে গিয়ে ছাত্ররা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

সেখানেই ছাত্রদের বাধা দেয় পুলিশ। যার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। সেই উত্তাপ প্রশমণ করতেই সোজা সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্রদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে একই ইস্যুতে বিক্ষোভ করছেন তিনিও। এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই মিলেনিয়াম পার্কে মোদীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মমতা। হাওড়া ব্রিজের লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, শনিবার শহরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে রবিবার দুপুর একটা পর্যন্ত ঠাসা কর্মসূচী ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তবে বেশীরভাগ অনুষ্ঠানই ছিল পোর্ট ট্রাস্টের তরফে। কোনও রাজনৈতিক প্রচার নয়, সম্পূর্ণ সরকারী অনুষ্ঠানে শহরে পা রেখেছেন তিনি। এর মধ্যে যেমন তিনি গিয়েছেন মিলেনিয়াম পার্কে, তেমনই যোগ দিয়েছেন পোর্ট ট্রাস্টের ১৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে। আবার রাজভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও মোদী-মমতার এই বৈঠককে একহাত নিয়েছেন বিরোধীরা।

এদিন, অশান্তির আশঙ্কায় দমদম বিমানবন্দর থেকে রেস কোর্সে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে। যদিও রেস কোর্সে নামার পর সড়ক পথে রাজভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। আর সেখানে কোনও যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্যে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যে পথে রাজভবনে যাওয়ার কথা ছিল সেই সমস্ত রাস্তায় ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়। কাউকে সিমানার মধ্যে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ফ্লাইওভার থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কালো পতাকা দেখানোর চেষ্টা করা হয়।