বেজিং: স্কুলের হোমওয়ার্ক নিয়ে কড়াকড়ি থাকে প্রতিটি স্কুলেই এমনকি হোমওয়ার্ক থাকে প্রাইভেট টিউশনিতেও৷ কখনও বা প্রজেক্ট শেষ করার তাড়ায় আমরা শেষ মূহুর্তে এসে তা করার চেষ্টা করি৷ বাবা মা তো ছেলে মেয়েদের হোমওয়ার্ক করান ব্রেকফাস্টের টেবিলে বসিয়েও৷ কিন্তু চলন্ত গাড়িতে বসে হোমওয়ার্ক? তাও আবার গাড়ির ছাদকে পড়ার টেবিল বানিয়ে? তা বোধহয় দেখা যায়নি কখনও৷ এমনই ঘটনা ঘটেছে চিনে৷ সেই ভিডিওই ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়৷

আরও পড়ুন: জুনিয়র পি সি সরকারের বায়োপিকে হাত দিলেন সৌমিক সেন

হোমওয়ার্ক করার তাড়া দেখা যায় অফ পিরিয়ডে বা ফ্রি পিরিয়ডে৷ কিন্তু কখনই সময়ের কাজ সময়ে না করার জন্য এমন দৌড় দেখতে পাওয়া যায় বৈকি৷ তবে হোমওয়ার্ক সারার ঘটনা জীবন সংশয় রেখে? হ্যাঁ এমনই ঘটনা ঘটেছে চিনে৷ যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে এক ছাত্রী তার হোমওয়ার্ক সারছে একটি ট্যাক্সির পেছনের জানলায় বসে৷ লেখার টেবিল বানিয়েছে ট্যাক্সির ছাদকে৷ ভিডিওটি তুলেছেন অন্য গাড়িতে থাকা এক যাত্রী৷ চলন্ত গাড়ির জানলায় বসে হোমওয়ার্ক করছে সেই ছাত্রী তার বাবার ট্যাক্সিতে বসেই৷ বাবা বসে আছেন ড্রাইভিং সিটে৷

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে মেয়েটির বাবা কি তাকে বারণ করেননি? এমন ঝুঁকি কেউ নেয়? চলতি গাড়ি৷ তাও আবার ব্যস্ত রাস্তায়৷ যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে৷ যিনি মোবাইল থেকে ভিডিওটি করেছেন তিনিই ভিডিওটি সোশাল সাইটে পোষ্ট করে দেন৷ বিশ্বের মানুষ দেখতে থাকে সেই ভিডিও৷ যদিও মার্শাল আর্টে চিনে নাম আছে৷ স্বাভাবিক ভাবেই ব্যালেন্সিং দক্ষতা চিনের মানুষের খুব ভাল৷ কিন্তু সব বিষয় নিয়েই তো মশকরা করা চলে না৷ বলছেন কেউ কেউ৷ ছাত্রী তাই বলে ট্যাক্সির ছাদকে পড়ার টেবিল বানিয়ে নোটবুকে লেখালেখি করবে?

আরও পড়ুন: ‘লোকসভায় তৃণমূলের একটা মশাও ছাপ্পা দিতে পারবে না’

ওই ছাত্রীর এই কায়দায় হোমওয়ার্ক করার কি কারণ তা যদিও এখনও পরিষ্কার হয়নি৷ শাংহাইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী যখন ওই তরুণী এভাবে হোমওয়ার্ক সারছিল তার বাবা তখন যাত্রী সিটে বসা এক বন্ধুর সঙ্গে গল্প করতে ব্যস্ত ছিলেন৷ তবে যখনই তিনি বুঝতে পারেন তার মেয়ে এইভাবে ঝুঁকি নিয়ে জানলা দিয়ে নিজেকে বের করে রেখে ট্যাক্সির ছাদকে পড়ার টেবিল বানিয়ে ফেলেছে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তাঁর মেয়েকে ভিতরে নিয়ে তিরস্কার করেন৷ ওই ট্যাক্সি ড্রাইভার মি. চেং জানান “আমি প্রথমে খেয়াল করিনি৷ কিন্তু যখন দেখলাম৷ মেয়েকে ভেতরে বসতে বলেছি৷ এবং তাকে বলেছি আর কখনও এরকম করবেনা৷”

যদিও এই ঘটনা ঘটার পর ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর চিনের এক দৈনিকে প্রকাশ পেয়েছে ওই ট্যাক্সি ড্রাইভারের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে৷ তাঁর কোম্পানি জানিয়েছে তিনি আর কখনও ট্যাক্সি চালাতে পারবেন না৷ ঘটনাটি ঘটেছে মধ্য চিনের হেনানের শাংকিউতে৷ ২০১৫ এ চিনের রিপোর্ট অনুযায়ী চিনের পড়ুয়ারা প্রত্যেক দিন দিনে দুবার হোমওয়ার্কের জন্য তিন ঘন্টা করে সময় দেয়৷

আরও পড়ুন: নিউ ইয়র্ক ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে উমা