স্টাফ রিপোর্টার,পাঁশকুড়া: বায়না ছিল সরস্বতী পুজোতে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দিতে হবে৷ কিন্তু বাড়ির লোক কথা রাখেনি৷ সেই অভিমানে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করল সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রী। মৃত ছাত্রী মৌমিতা মুর্মু (১২)। ঘটনাটি ঘটেছে পাঁশকুড়া থানার অন্তর্গত পশ্চিম অর্জুনদা গ্রামে।

আত্মঘাতী ছাত্রী রাতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়া৷ জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই একটি স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরেছিল মৌমিতা। কিন্তু পেশায় দিনমজুর বাবা বীরেন মুর্মু তার আবদার পূরণ করতে পারেননি। মোবাইল কিনে দিলে লেখাপড়ার ক্ষতি হবে বলে মৌমিতাকে বকাঝকা করেন মা মুনু মুর্মুও।

আরও পড়ুন : সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের আবর্জনা স্তুপে সদ্যোজাতের দেহ

আর সেই কারণে অভিমানে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। শনিবার রাতে পরিবারের সবার সাথে খাওয়াদাওয়া করার পর বোনের সঙ্গে ঘুমোতে যায় মৌমিতা। রাত তিনটে নাগাদ বাড়িতে থাকা চাষের কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক খেয়ে নেয় সে। তারপরই চিৎকার শুরু করলে পরিবারের লোকেরা তড়িঘড়ি তাকে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। রবিবার সন্ধেয় হাসপাতালেই মারা যায় সে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাঁশকুড়া থানার ওসি অজিত কুমার ঝাঁ। মৌমিতার জেঠু সনাতন মুর্মু বলেন, ‘ভাইঝি মোবাইল চেয়েছিল। তাই তার মা বকাবকি করেছিল। এই তুচ্ছ কারণে এমন ঘটবে আমরা কল্পনা করতে পারিনি। বাচ্চা মেয়ে পড়াশোনার ক্ষতি হবে বলেই ফোন কিনে দেওয়া হয়নি।’

আরও পড়ুন : রাজীব কুমারের সিবিআই জেরা আমার নৈতিক জয়: কুণাল

প্রতিবেশী রূপচাঁদা হাঁসদা বলেন, ‘সামান্য ফোন কেনার আবদার না মেটানোয় আত্মঘাতী হওয়ায় আমরা সবাই হতবাক।’ ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মৌমিতার বাবা-মা।