স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দিনে দুপুরে যৌন হেনস্থার শিকার৷ লজ্জায় ও অপমানে আত্মঘাতী এক ছাত্রী৷ ঘটনাটি পূর্ব মেদিনীপুরের অর্জুনি গ্রামে৷ মৃতার নাম বনলতা জানা (১৭)৷ একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সে৷ ঘটনায় অভিযুক্ত পলাতক৷

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে পাশের গ্রামের বাসিন্দা সমীর দাসের সঙ্গে আলাপ হয় বনলতার৷ তার কিছুদিন পর থেকেই রাস্তায় দেখা হলে সমীর বনলতাকে নানা কুপ্রস্তাব দিতে থাকে৷ বিষয়টি বনলতা তার বাবাকে জানায়৷ তিনি সমীরের সঙ্গে কথা বলে বনলতাকে এই ধরণের কথা না বলতে ও বিরক্ত করতে বারণ করেন৷ কিন্তু কথা শোনেনি সমীর৷

এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে সমীর বনলতাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়৷ তাতে সে রাজি না হয়নি৷ এরপর সমীর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে শুরু করে৷ বৃহস্পতিবার দুপুরে বনলতা টিউশন শেষে বাড়ি ফেরার সময় তার পথ আটকায় সমীর ও দুই বন্ধু৷ সে কিছু বলার আগেই সাইকেল থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করে৷ বনলতার সঙ্গে তার বন্ধুরা থাকলেও ঘটনায় ভয়ে পালিয়ে যায়৷

ঘটনার পর বনলতা বাড়ি ফিরে কীটনাশক খেয়ে নেয়৷ অসুস্থ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে তাকে এগরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তার৷ সমীর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতার পরিবার৷ অভিযুক্ত সমীর দাস পলাতক৷ বাবা সিদ্ধেশ্বর দাসকে এগরা থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে৷ মৃতদেহ এগরা থানার পুলিশ ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে৷ ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ৷