স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: পড়ুয়াদের মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ৷ মানসিক অবসাদে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করল এক ছাত্র৷ শুক্রবার সকালে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় বর্ধমানের এমবিসি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে৷ বর্ধমান মেডিকেল কলেজের রাধারাণী ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রথম বর্ষের ওই ছাত্র কৌস্তভ তোস ভরতি রয়েছে৷ তার বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের দারপুর থানার রাজনগর এলাকায়। শুক্রবার সকাল থেকে এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রছাত্রীরা।

প্রতিবাদে এবং কলেজ অধ্যক্ষ ড. অসিত মান্নাকে অপসারণের দাবীতে কলেজে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে বসে পড়েন ছাত্রছাত্রীরা। দ্রুত খবর পৌঁছায় কলকাতায়। রাজ্য সরকারের কারিগরী দপ্তরের মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর কাছে খবর পৌঁছানোর পরই তিনি দ্রুততার সঙ্গে রাজ্য টেকনিক্যাল কাউন্সিলের ডিরেক্টর শৈবাল মুখোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী প্রতিনিধি হিসাবে তপন রায় চৌধুরীকে বর্ধমানে পাঠান।

সবপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারার পর কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়ে যান তাঁরা। একইসঙ্গে তদন্ত চলাকালীন অসিত মান্নাকে ছুটিতে যাবার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ জারী করা হয় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত অসিতবাবু কলেজে ঢুকতে পারবেন না।

যদিও এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কেন ছাত্রছাত্রীরা এই অভিযোগ তুলছেন তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এমনকি ওই ছাত্র কেন এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করল তাও তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি জানিয়েছে্ন, তিনি কোনো অত্যাচার বা মানসিক চাপ দেননি।

যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, বৃহস্পতিবার কৌস্তভকে হোষ্টেল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে তাকে চিঠি ধরানো হয়েছে। তবে কেন তাকে বহিষ্কার করা হল সে প্রসঙ্গে এড়িয়ে গেলেন এদিন কলেজ অধ্যক্ষ। এদিকে, ওই ছাত্রের মা স্বর্ণলতা তোস জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে তাঁকে বর্ধমান পুলিশের পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয় তাঁর ছেলে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভরতি৷ এই খবর পেয়েই তিনি ছুটে আসেন বর্ধমানে।

তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলের ওপর লাগাতার মানসিক নির্যাতন চালিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. অসিত কুমার মান্না। এমনকি বৃহস্পতিবার তাঁকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে চিঠি ধরানো হয়েছে। এর আগেও তাঁকে হস্টেল থেকে বার করে দেবার চেষ্টা করা হয়েছে। লাগাতার এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই মেধাবী কৌস্তভ আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।

কৌস্তভের পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আবেদন জানানো হবে৷ বর্ধমান থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে৷ অন্যদিকে, শুক্রবার সকালে এই ঘটনার পরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ছাত্রছাত্রীরা। এদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বর্ধমান শহর সভাপতি পিকু ক্ষেত্রপাল জানিয়েছেন, কৌস্তভ একজন প্রতিবাদী ছাত্র। সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষ কলেজের একটি অনুষ্ঠানের জন্য ৫টি গাছ কাটার কথা বলে ১০টি গাছ কাটেন। আর সে ব্যাপারে সরাসরি কৌস্তভ অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে কেন সবুজ ধ্বংস হয়েছে তা জানতে চায়। এরপরই অধ্যক্ষ তার ওপর প্রতিশোধ প্রবণ হয়ে ওঠেন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প