সেঞ্চুরিয়ন: চোটের কারণে দীর্ঘ বিরতির পর দেশের জার্সি গায়ে বাইশ গজে ফিরলেন জেমস অ্যান্ডারসন। আর সেঞ্চুরিয়নে বক্সিং-ডে টেস্টে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বৃহস্পতিবার নজির গড়ে ফেললেন জিমি। বিশ্বের নবম ক্রিকেটার এবং প্রথম বোলার হিসেবে ১৫০টি টেস্ট খেলার অনন্য নজির গড়লেন টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। আর দীর্ঘদিনের সতীর্থর মাঠে ফেরার দিনে বিরল কৃতিত্ব গড়লেন রুটের দলের আরেক তারকা পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড।

বরং বলা ভালো অ্যান্ডারসনের কৃতিত্বে এদিন ভাগ বসালেন ব্রড। জিমির পর চলতি দশকের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ৪০০ উইকেট নেওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন ব্রড। সেঞ্চুরিয়নে বৃহস্পতিবার টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ইংরেজ দলনায়ক জো রুট। ১৫০তম টেস্টের প্রথম বলেই ডিন এলগারকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে নজর কাড়েন অ্যান্ডারসন। দশকের পঞ্চম বোলার হিসেবে সুরঙ্গা লাকমল, মিচেল স্টার্ক ও ডেল স্টেইনের রেকর্ডে ভাগ বসান অ্যান্ডারসন।

দিনের বাকি সময়টাও থাকে ইংরেজ বোলারদের অধীনেই। কুইন্টন ডি’ককের ৯৫ ছাড়া ব্যাট হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বড় রানের ইনিংস গড়তে ব্যর্থ বাকিরা। এরইমধ্যে ম্যাচের ৩৭ তম ওভারের তৃতীয় বলে ব্রডের ৪০০তম শিকার হন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফ্যাফ ডু’প্লেসি। ব্যক্তিগত ২৯ রানে রুটের হাতে তালুবন্দি হয়ে ফেরেন তিনি। সতীর্থ অ্যান্ডারসনের (৪২৮*) পর দশকের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এহেন রেকর্ড ঝুলিতে ভরলেন ব্রড। দশকের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় পরের তিনটি নাম যথাক্রমে ন্যাথন লায়ন (৩৭৬*), রঙ্গনা হেরাথ (৩৬৩), রবিচন্দ্রন অশ্বিন (৩৬২)।

ডু’প্লেসির ২৯ ছাড়া এদিন সেঞ্চুরিয়নে উল্লেখযোগ্য ৩৯ রান করেন জুবেইর হামজা। অভিষেককারী ডোয়েন প্রিটোরিয়াসের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান। প্লেসি ছাড়াও প্রথমদিন হামজা ও রাবাদার উইকেট ঝুলিতে ভরেন ব্রড। অ্যান্ডারসন এক উইকেট পেলেও ব্রডের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রোটিয়া শিবিরে ধস নামানোর কাজটা সারেন স্যাম কারেন।

শতরান থেকে পাঁচ রান দূরে দাঁড়িয়ে কারেনের বলেই উইকেটের পিছনে বাটলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কক। এছাড়াও এইডেন মার্করাম, ভ্যান ডার ডাসেন ও ডোয়েন প্রিটোরিয়াসের উইকেট ঝুলিতে ভরেন কারেন। কেশব মহারাজের উইকেটটি তুলে নেন জোফ্রা আর্চার। মূলত কারেনের ৪ উইকেট ও ব্রডের ৩ উইকেটে ভর করেই প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সস্তায় গুটিয়ে দেওয়ার পথে থ্রি-লায়ন্সরা। প্রথম দিনের শেষে প্রোটিয়াদের রান ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭৭।

প্রোটিয়াদের হয়ে ব্যাট হাতে প্রথমদিন সবচেয়ে সফল ডি’ককের ৯৫ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ১৪টি বাউন্ডারিতে। প্রথমদিনের শেষে ক্রিজে ২৮ রানে অপরাজিত ভার্নন ফিলান্ডার। ৮৩তম ওভারের চতুর্থ বলে রাবাদার উইকেট পতনের সঙ্গে সঙ্গেই সেঞ্চুরিয়নে বক্সিং-ডে টেস্টের প্রথমদিনের খেলার পরিসমাপ্তি ঘটে। তৃতীয়দিন অ্যানরিচ নর্তজেকে সঙ্গে নিয়ে ফিলান্ডার দলের ইনিংস কতটা দীর্ঘায়িত করতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ