সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: নদী দূষণ রুখতে প্রতিমা নিরঞ্জনে এবার বেশ কড়াকডি ব্যবস্থা নিচ্ছে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন৷ নিরঞ্জনের সঙ্গে সঙ্গে নদী থেকে কাঠামো তুলে নিতে প্রতিটি ঘাটে ক্রেন রাখার ব্যবস্থা করছে জলপাইগুড়ি পুরসভা। রাজ্য রাজধানী কলকাতার গঙ্গার ঘাটের মতোই জলপাইগুড়ি শহরের করলা নদীর প্রতিটি ঘাটে ক্রেন রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রশাসনের  পক্ষ থেকে পুজোর ফুল, বেলপাতা, ঘট নদীতে না ফেলার অনুরোধ করা হয়েছে পুজো কমিটিগুলির কাছে৷ পুজোর উপকরণ ফেলবার জন্য প্রতিটি ঘাটে নিদিষ্ট জায়গা তৈরি করা হয়েছে স্থানীয় পুরসভার পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, প্রতিমা নিরঞ্জন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়ি শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে গিয়েছে করলা নদী। প্রতি বছর করলা নদীর মাসকালাই বাড়ি, সমাজপাড়া, বাবুঘাট এবং কিংসাহেবের ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করে থাকে পুরসভা। কিন্তু, ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিমা বিসর্জনের পরই করলা নদীতেই দেখা দিয়েছিল মাছের মড়ক। সেই সময় প্রায় ৩২টি প্রজাতির মাছ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় করলা নদী থেকে। পরবর্তীতে জানা গিয়েছিল, প্রতিমা তৈরির রঙে মেশানো কীটনাশক থেকে বিষক্রিয়ার ফলেই মাছের মড়ক হয়েছিল। সেই সময় তিস্তার ক্যানেল থেকে লকগেট দিয়ে জল ছেড়ে করলাকে বিষ মুক্ত করা হয়।

নদী বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ‘দুইবছর পরে করলা আবার আপন বাস্তুতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। ইতিমধ্যে করলায় বেশকিছু বড় মাছও ধরা পড়েছে স্থানীয় মৎস শিকারিদের জালে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইদানীং কালে প্রতিমাকে আকর্ষনীয় করে তুলতে বেশ কিছু কেমিক্যাল মিশ্রিত রঙ ব্যবহার করছেন মৃৎশিল্পীরা। সেই সমস্ত প্রতিমা নদীতে বিসর্জন দিলে জলদূষণের একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। ২০১৩ সালের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই কথা মাথায় রেখেই চারটি ঘাটেই ক্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।

জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসু জানান, ‘প্রতি বছর প্রতিমা নিরঞ্জনের পর ঘাটগুলিকে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলা হয়। এই বছর জলদূষণ রুখতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমাগুলি জলে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে তুলে ফেলার জন্য ক্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে’ ৷এছাড়াও তিনি আরও জানান, ‘কেবলমাত্র জল থেকে তোলার জন্য নয়, যদি কোন পুজো কমিটি চান ক্রেনের সাহায্যে প্রতিমা নিরঞ্জন করতে তাদেরকেও ক্রেন দিয়ে সাহায্য করবে পুরসভা। পাশাপাশি প্রতিটি ঘাটে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মেডিকেল টিম রাখা হবে। থাকবে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও’৷
জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়া জানান, রবিবার সমস্ত পুজো কমিটিগুলিকে প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি নিরঞ্জন ঘাটে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বি এস এফ এবং এনডিএফবিকেও রাখা হচ্ছে প্রতি ঘাটে৷