নয়া দিল্লি: আমরা অলীক কল্পনার জাল বুনতে খুব ভালোবাসি। আরো ভালোবাসি যদি কেউ তা আমাদের চোখের সামনে গল্পের ছলে এঁকে দেয় আর আমরা তা অনুভব করি। এমন গল্পের দুনিয়া এখন আর পাওয়া যায় না। তবে এক সময় এটাই ছিল একদলের পেশা। তারা অজানা মানুষদের নানা গল্প শোনাতো ও টাকা-পয়সা উপার্জন করতো। এসবই মানুষের খাঁটি বিনোদনের উপায় ছিল সেই সময়ে। তবে টিভি আবিষ্কারের পর এই কাজ বেশি চলতো না। এমনকি চাহিদা না থাকায় যারা সেই সময়ে এই কাজ করেই সংসার চালাতেন তারাও বাধ্য হয়েছেন এই পেশা বদল করতে। এই পেশায় যারা অন্তর্ভুক্ত ছিল তাদের বলা হতো “দাস্তানগোয়িরা”।

খাতা কলম বা পুঁথি ছাড়াই এক এলাকার গল্পকে এরা মুখে মুখে বলে নিয়ে গেছেন অন্য জায়গায়। ফলে এক জায়গার গল্প ছড়িয়েছে নানা জায়গায়। এভাবে সেখানকার আদব-কায়দা, চালচলন, শিল্প-সংস্কৃতি পৌঁছে গিয়েছে অন্য জায়গার দরবারে। পৃথিবীর ইতিহাসজুড়ে আছে এমন হাজার গল্পকারেরা। যেখানে লোকের ভিড় বেশি সেইসব জায়গায় এরা গিয়ে গল্প বলা শুরু করতেন নিজের থেকেই। সেই গল্পে রোমাঞ্চের আঁচ পেয়ে শ্রোতারা নিজেরাই জমাতো ভিড়। ‘দাস্তান’ শব্দটি একটি ফারসি শব্দ যার অর্থ আখ্যান।

এটি খুঁজে পাওয়া যেত প্রাচীন ইরানে। মধ্যপ্রাচ্যে তৎকালীন পারস্যে, অর্থাৎ বর্তমান ইরানে এর আবির্ভাব ঘটে বলে লোকমুখে প্রচারিত। মধ্যপ্রাচ্যের আরব বণিকরানানা জায়গায় ব্যবসার কাজে যেতেন। সেই দীর্ঘ পথে তাদের বিনোদন যোগাতো এই গল্পকাররা। মধ্য এশিয়া, পারস্য, খাইবার পাস পেরিয়ে দিল্লিতে এসে পৌঁছেছিলেন কিছু দল। ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায়ও এই যাযাবর দলগুলি ঘাঁটি গেড়েছিল যারা ‘কিসসা’ বা ‘দাস্তান’ বলে বেড়াত। বর্তমান সময়ের পাঁচালির থেকে এটি আলাদা। কারণ কোন সুর বা বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োগ হয় না। ভিড় টানতে বাচনভঙ্গিই ছিল যথেষ্ট।

সরাইখানা ও সৈন্য শিবিরে বসত এই আসর। মুঘল সম্রাট হুমায়ুন বিহারের সুবাদার শেরশাহের কাছে পরাজিত হয়ে পারস্যে গেলে দস্তানগোয়িদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরলে দিল্লীর মুঘল দরবারে বেশ কদর পেয়েছিল দাস্তানগোয়িরা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।