সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: পরাধীন ভারতের কথা। ১৯৪১ সালে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী হন কৃষক প্রজা পার্টির নেতা ফজলুল হক। আর তাঁরই মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী ছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

পরে স্বাধীন ভারতে নেহরু মন্ত্রিসভার প্রথম শিল্পমন্ত্রীও তিনি। এমনই একজন নেতা পরে প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। যা পরে বিজেপিতে রূপান্তরিত হয়েছে। কেমন ছিল ড. শ্যামাপ্রসাদের স্বাধীনতা দিবস পালন, স্মৃতি রোমন্থনে সেই কথা জানিয়েছেন তাঁরই স্নেহধন্য নীতিতোষ মুখোপাধ্যায়।

৭৬ বছরের নীতিতোষবাবু থাকেন সল্টলেকে৷ কিন্তু ১৫ অগস্টের দিন তাঁর মন পড়ে থাকে হুগলির বলাগড়ে৷ তিনি ছোটবেলা কাটিয়েছেন সেখানে৷ যেখানে তার পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল শ্যামাপ্রসাদের। স্মৃতি রোমন্থন নীতিতোষবাবু বলেন, ”খুব ছোটবেলায় ড. শ্যামাপ্রসাদের সান্নিধ্যে এসেছিলাম। ছোটবেলায় ১৫ অগস্টের জন্য অপেক্ষা করে থাকতাম৷ কয়েকদিন আগে থেকে চলত তার প্রস্ততি৷”

স্বাধীনতা দিবসের দিন সকাল সকাল স্কুলে চলে যেতেন তিনি৷ বলাগড় হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন৷ তিনি বলেন, ”পোশাক বলতে সাদা হাফ প্যান্ট, সাদা শার্ট ও জুতো৷ আর পরতে হত স্কুল ব্যাচ৷ ব্যান্ড পার্টি নিয়ে সারা গ্রাম প্রদক্ষিণ করে স্কুলে এসে হত পতাকা উত্তোলন৷ কোনও কোনও বছর হাজির থাকতেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দাদা রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়৷ গাওয়া হত স্বাধীনতার গান৷ সবাই এক সঙ্গে গাইতাম বন্দে মাতরম ও চল চল চল৷”

তবে ১৫ অগস্ট আসলে এখনও নীতিতোষ মুখোপাধ্যায়ের ডাক পড়ে পাড়ার ক্লাবে৷ ঘটনাচক্রে ১৯৪২ সালের ১৫ অগস্ট তার জন্মদিন৷ কাশ্মীর নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এক দেশ, এক বিধান, এক নিশানার প্রবক্তা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আজ বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন৷ তাছাড়া সবারই জানা,ভারতের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে সংবিধানের বিশেষ অনুচ্ছেদ ৩৭০ ধারা বিলোপ ও পারমিটরাজ বাতিলের দাবিতে তিনি কাশ্মীর অভিযান করেন। ১৯৫৩ সালের ১১ই মে পাঞ্জাবের উধমপুরে শেষ সভা করে কাশ্মীরে প্রবেশের পথে গ্রেফতারি বরণ করেন তিনি।

জেল বন্দি থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নীতিতোষ মুখোপাধ্যায় বলেন, ব্রিটিশ আমলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যখন আমাদের বাড়ি আসতেন তখন তিনি বাংলায় কথা বলতেন৷ এখনকার মত নয় অর্থাৎ বর্তমানের শিক্ষিত মানুষের একাংশ কথা বলতে গিয়ে বাংলা ,ইংরেজি ও হিন্দিকে একসঙ্গে মিশিয়ে বলেন৷ নিয়ম করে ১৫অগস্ট পালন হয় ঠিকই, কিন্তু আরও একটু আন্তরিক হওয়া দরকার বলে জানিয়েছেন নীতিতোষবাবু।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.