সুপর্ণা সিনহা রায়, কলকাতা: শুরু তো করেন অনেকেই। শেষ করা হয় ক’জনের। মেয়েবেলার প্রতিভাগুলোর উপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পলি পড়তে শুরু করে। স্কুলে ধাপ এগোলেই পরীক্ষা, কলেজ পেরলেই চাকরি, তারপর সংসার। কাজ করতে করতে গুনগুন করে গান! এভাবেই বুকের ভিতর আটকে থাকে নিজের ভালোবাসার গল্পগুলো। শুধু নিজের একটা জগত যখন ফুরিয়ে আসে, তখন ইচ্ছেডানাগুলো মেলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ডানা মেললেও বেড়িতে আটকে যায় পা। এ তো গেল গড়পড়তা বাঙালি মেয়ের গল্প। কিন্তু সৌমিতার গল্পটা ব্যতিক্রমী।

স্কুল-কলেজের গণ্ডী পেরিয়ে আজকালকার আর পাঁচটা মেয়ের মতই তাঁকেও ১০ টা-৬ টার ডিউটি বেছে নিতে হয়েছে। পেশায় ওয়েব ডেভেলপার সৌমিতা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ছোট্ট কিউবে বসে আঙুলে Shift-Enter কিংবা Tab-এর কারসাজি। কিন্তু প্রত্যেকদিন কি বোর্ডে আঙুলের চাপে স্বপ্নগুলোতে একটু একটু করে টিপে মেরে ফেলতে চান না সৌমিতা। গাইতে চান গলা ছেড়ে। কংক্রিট-আর মেশিনে বন্দি জীবন থেকে বেরিয়ে তিনি তোলেন মাটির সুর।

না, তাঁর জীবনের ব্যতিক্রম এখানেই শেষ নয়। যারা বলে সংসারের চাপে আর গান গাওয়া হয় না। তাদের জন্য উদাহরণ সৌমিতা নন, অপর্না হাজরা। সৌমিতার শাশুড়ি। শুধু মুখের কথায় উৎসাহ দেওয়াই নয়, পাশে বসে যন্ত্রসঙ্গীতে সঙ্গত দেন অপর্না। সঙ্গে থাকেন তাঁর স্বামী। সৌমিতার লোকগানের সঙ্গে অপর্না বাজান ঘুঙুর, স্বামী অর্পণ বাজান ডুবকি।

তবে পানিহাটীর বাসিন্দা সৌমিতা শুধু গান ভালোবেসে গান। গানকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই তাঁর। শুধুই নিজের ভালোলাগার জন্য, হৃদয় দিয়ে গান গেয়ে যেতে চান তিনি। তাঁর কথায়,’গানকে আমি ভীষণ মন থেক ভালোবাসি। কিন্তু প্রফেশন হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছে হয়নি কখনও।’ যে নিজের প্রতিভা নিয়ে এতদূর এগিয়েছে, সে কি তবে লাইমলাইট থেকে দুরে থাকতে চায়? না, তেমনটা ইচ্ছে নয় সৌমিতার। তবে লাইমলাইটে আসতে চান হৃদয়ের সুর ধরে। গান গেয়ে রোজগার করা নয়, তাঁর গান কেউ ভালোবেসে গ্রহণ করলে, সেটাই হবে তাঁর লাইমলাইট।

CFP Films আর Kolkata24x7-এর যৌথ প্রয়াসে এভাবেই উঠে আসছে অনেক প্রতিভার গল্প। কিন্তু ‘সুরে-ঘুঙুরে’র কাছে কীভাবে পৌঁছলেন তিনি? এখানেও অবদান আছে তাঁর শাশুড়ি মায়ের। তিনিই ফেসবুকে দেখে সৌমিতাকে বলেন এই প্লাটফর্মের কথা। সুরে-ঘুঙুরে-র টিমকে তাঁর বাড়িতে পথ দেখিয়ে যান অপর্ণা দেবীই। ‘সুরে-ঘুঙুরে’র পাঁচ নম্বর এপিসোড সত্যিই একটা উদাহরণ হয়ে উঠবে অনেক মেয়ের কাছে। হয়ত উৎসাহ জোগাবে জীবন আর যাপণ দুটোকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। থেমে যাওয়ার গল্প নয়, এভাবেই আরও নতুন ভাবে জীবন শুরু করুন সৌমিতারা।