শেখর দুবে, কলকাতা: গুজরাটের মেহসানা থেকে প্রায় ৩০ কিমি রাস্তা পার হয়ে পৌঁছানো যায় ব্রাহ্মণওয়াড়া৷ এখানেই অশোক মোদীর বাড়ি৷ আপাতত এই বাড়িতেইথাকেন প্রাক্তন স্কুল শিক্ষিকা যশোদাবেন৷ বয়স ষাঠের কোঠা স্পর্শ করেছে প্রায় সাত বছর আগে৷ শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর সাধারণ হিন্দু বাড়িমহিলাদের মতোই পুজোআচ্চায় সময় কাটে যশোদাবেনের৷ কিন্তু হঠাৎ এই যশোদাবেন-কে নিয়ে প্রতিবেদন লেখার দরকার পড়ল কেন? কারণ অবশ্যই রয়েছে৷

উইকিপিডিয়াতেএই নামটির পাশেই লেখা রয়েছে ‘এসট্রেনজেড ওয়াইফ অফ ইন্ডিয়ান প্রাইম মিনিস্টার নরেন্দ্র মোদী’‘এসট্রেনজেড’ শব্দটির বাংলা অনুবাদ, ‘পারিবারিকভাবে যোগাযোগ বিছিন্ন’৷ যদিও খাতায় কলমে তাঁকেই নিজের স্ত্রীর অধিকার দিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ সেইঅর্থে যশোদাবেন নরেন্দ্রভাই মোদী ভারতের ‘ফার্স্ট লেডি’৷ এবং সম্ভবত ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে সাধারণ ‘ফার্স্ট লেডি’ও৷

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নয় গুজরাতে মফস্বলের একটি ছোট বাড়িতে দিনগুলো কাটছে তাঁর৷ ১২ বছর বয়সে বালক নরেন্দ্র সঙ্গে বিয়ে প্রায় পাঁচবছর পর একসঙ্গে থাকা শুরু দুজনের, এরপর সন্ন্যাসের টানেহিমালয়ের পথে বেরিয়ে যান নরেন্দ্র মোদী৷ তখন থেকেই একা থাকেন যশোদাবেন৷ ভাগ্যচক্রে সন্ন্যাসী হননি নরেন্দ্র৷ প্রথমে তিন পর্বের গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী তারপরদেশের সবচেয়ে চর্চিত প্রধানমন্ত্রী৷ এত সবের মাঝে যশোদাবেন থেকে গেছেন অনেকটাই নিভৃতে৷

সংবাদমাধ্যমের কিংবা মোদী বিরোধীদের কাছে বড় অস্ত্র হতে পারতেন যশোদাবেন৷ মুখ খুলতেই পারতেন নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে৷ কারণও রয়েছে একাধিক ২০১৪ লোকসভা ভোটের সময় বিরোধীরা সে চেষ্টাও কম করেনি৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তেমন কোনও শব্দই বলানো যায়নি তাঁকে৷ উল্টে বারে বারে নরেন্দ্র মোদীর সাফল্য কামনা করে এসেছেন যশোদাবেন৷

ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন মোদী৷ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বামী মোদীর পাশে থাকার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন যশোদাবেন৷ কিন্তু বলাই বাহুল্য সে ইচ্ছে পুরণ হয়নি৷ তবে তাতেও কোন রকম ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা বা শোনা যায়নি ভারতের ‘ফার্স্ট লেডি’-কে৷

২০১৪ লোকসভা ভোটের সময় কিছুটা আর সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের শুরুতে আর একটু, ব্যস এতটুকু আলোচনায় বরাদ্দ হয়েছে যশোদাবেন মোদীর জন্য৷ যেখানে দেশে-বিদেশের রাষ্ট্র প্রধানদের স্ত্রী-কে নিয়ে পাতার পর পাতা কালি খরচ করেছে সংবাদ-মাধ্যমগুলো, সেখানেই ভারতের সর্বময় কর্তা ব্যক্তিটির স্ত্রী রয়ে গেলেন অনেকটাই আড়ালে, রহস্যের মোড়কে৷