২০১৯-এর নোবেল পুরস্কারের শেষবেলায় চমক। নোবেল উঠল বাঙালির হাতে। তাও আবার কলকাতার ছেলে। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পড়াশোনাও কলকাতারই স্কুল ও কলেজে। তবে আরও একটি নজির গড়ল এই নোবেল। ষষ্ঠ দম্পতি হিসেবে নোবেল পেলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও এসথার ডাফলো।

প্রথম দম্পতি হিসেবে নোবেল পেয়েছিলেন পিয়ের কুরি ও মাদাম কুরি। শেষবার ২০১৪-তে একসঙ্গে নোবেল পেয়েছিলেন মে ব্রিট মোজার ও এডভার্ট আই মোজার একসঙ্গে মেডিসিন ও ফিজিওলজি বিভাগে গবেষণার জন্য নোবেল পেয়েছিলেন।

বছর চারেক আগে ডাফলোর সঙ্গে বিয়ে হয় অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ডাফলো একজন ফরাসি-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ। দু’জনে একসঙ্গে ‘আব্দুল লতিফ জামিল পভার্টি অ্যাকশন ল্যাব নামে একটি ফাউন্ডেশন চালান।

একসময় ডাফলো ছিলেন অভিজিতের ছাত্রী। ডাফলো তখন পিএইচডি করছেন এমআইটি বা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে। আর অভিজিৎ তখন সেখানকার সুপারভাইজার। সেখানেই আলাপ দু’জনের। সেটা ১৯৯৯।

তবে তারও আগে অভিজিতের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় এসথার ডাফলোর। ১৯৯৪ তে ডেভেলপমেন্ট ইকনমিক্স নিয়ে অভিজিত ক্লাস নিয়েছিলেন। আর সেখানেই উপস্থিত ছিলেন ডাফলো। ডেভেলপমেন্ট ইকনমিক্স বিষয়টা ফ্রান্সে পড়ানো হত না। তাই এই বিশেষ কৌতূহলী ছিলেন ডাফলো।

১৯৯৭ তে ভারতে আসেন এসথার। সেইসময় তাঁর গাইড হিসেবে ছিলেন অভিজিৎ। এর বছর কয়েক পরে তাঁরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। ১৮ মাস একসঙ্গে ছিলেন তাঁরা। এক সন্তানেরও জন্ম দেন অভিজিৎ ও এসথার ২০১২-তে। এরপর ২০১৫ তে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন।

এর আগে আর এক বাঙালি ইকনমিস্টকে বিয়ে করেছিলেন অভিজিৎ। কলকাতার মেয়ে অরুন্ধতী তুলি বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রথম স্ত্রী। তিনিও এমআইটি-র অধ্যাপিকা।

পরবর্তীকালে গ্লোবাল পভার্টি বা বিশ্বের দারিদ্র্যের পরিস্থিতি নিয় একসঙ্গে কাজ করেছেন অভিজিৎ ও ডাফলো। তাঁদের সেই গবেষণা আগামিদিনে অর্থনৈতিক উন্নতির বিশেষ পথ দেখাবে বলেই আশা করা হয়। এই গবেষণার জন্যই আজ হাতে হাত ধরে নোবেল পেলেন অভিজিৎ ও ডাফলো।