১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি৷ দিল্লির বিড়লা ভবনে মহাত্মা গান্ধীজিকে গুলি করে হত্যা করা হয়৷ জাতির জনককে লক্ষ্য করে একটার পর একটা গুলি করা হয়৷ ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন গান্ধীজি৷ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷ এ ঘটনা ছোট থেকে বড় কারও অজানা নয়৷ কিন্তু এর বাইরেও অনেক কিছু রয়েছে যা অনেকের অজানা৷ আজ তক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে তেমনই কিছু জানা-অজানা কথা তুলে ধরা হল-

১৯৪৮সালের ৩০ জানুয়ারি বেলা ৪টা নাগাদ কথাবার্তার জন্য সর্দার প্যাটেলকে ডেকেছিলেন গান্ধীজি৷ প্যাটেল তাঁর মেয়ে মণিবেনের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে গান্ধীজির সঙ্গে দেখা করতে যান৷ প্রার্থনা সভার পরেও সর্দার প্যাটেলের সঙ্গে কথা বলতে চান গান্ধীজি, তাই তাঁকে সেখানেই অপেক্ষা করতে বলেন তিনি৷ কিন্তু বিধির বিধান৷ প্যাটেলের সঙ্গে বৈঠকের পরে প্রার্থনার জন্য যাওয়ার সময় গডসে তাঁকে গুলি করে৷

বিড়লা ভবনে প্রতিদিন বিকেল ৫টা নাগাদ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হত৷ গান্ধীজি দিল্লিতে থাকলে সেখানে উপস্থিত থাকতে ভুলতেন না৷ ৩০জানুয়ারি বিকেল ৫টা, গান্ধীজি সর্দার প্যাটেলের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন৷ তখনই হঠাৎ গান্ধীজির নজর ঘড়ির দিকে যায় আর তিনি প্রার্থনার জন্য বেরিয়ে পড়েন৷ হঠাৎই সে সময় নাথুরাম গডসে তাঁর সামনে এসে হাতজোড় করে তাঁকে বলেন- নমস্তে বাপু (নমস্কার বাপু)৷ বাপুর সঙ্গে উপস্থিত মনু তখন বলেন, ভাই সামনে থেকে সরে যান, বাপুকে যেতে দিন, দেরি হয়ে গিয়েছে৷ তখনই হঠাৎ তার লুকিয়ে রাকা পিস্তল বের করে গান্ধীজির দিকে তাক করে গুলি করতে শুরু করে৷ সেখানেই লুটিয়ে পড়েন গান্ধীজি৷

গান্ধীজির হত্যার পর নাথুরাম বলে, যখন আমি এটার পর একটা গুলি করছি গান্ধীজিকে তকন তাঁর চারপাশের সকলে ভয়ে পালিয়ে যায়৷ আমি আত্মসমর্পণের জন্য দু হাত ওপরে তুললেও ভয়ে কেউ আমার দিকে এগিয়ে আসেনি৷ পুলিশও দূর থেকেই সব দেখছিল৷ আমি নিজে পুলিশ পুলিশ করে চিৎকার করছিলাম৷ প্রায় ৫-৬ মিনিট পরে এক ব্যক্তি আমার কাছে আসে৷ তারপরই উত্তপ্ত জনতা আমাকে মারতে শুরু করে৷

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮-এর আগে ১৯৩৪ এবং ১৯৪৪-এ গান্ধীজিকে হত্যার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু দুবার গডসে ব্যর্থ হয়ে যায়৷ এরপর গডসে তার বন্ধু নারায়ণ আপ্তের সঙ্গে মুম্বই ফিরে চলে যায়৷ দুজন দত্তাত্রয় পরচুরে এবং গঙ্গাধর দণ্ডাবতের সঙ্গে জোট বেঁদে একটি পিস্তল কেনে৷ ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ফের তারা দিল্লিতে আসে এবং রেলওয়ে স্টেশনের ৬ নম্বর বিশ্রামাগারে ওঠে৷