কলকাতা২৪x৭: জগদ্ধাত্রীর আরাধনা মূলত বঙ্গদেশে প্রচলিত হলেও , কলকাতার তুলনায় হুগলির চন্দননগর ও নদিয়ার কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো বেশি জনপ্রিয় ।

কৃষ্ণনগরে এই পুজো শুরুর ঘিরে নানা মত রয়েছে ৷ কিংবদন্তী অনুসারে নবাব আলিবর্দির রাজত্বকালে মহাবদজঙ্গ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কাছ থেকে বারো লক্ষ টাকা নজরানা দাবি করেছিলেন। সেই নজরানা দিতে না পারায় রাজাকে বন্দী করে মুর্শিদাবাদে (মতান্তরে মুঙ্গেরে) নিয়ে যাওয়া হয়৷। এরপর সেখানে মুক্তির পর নদীপথে কৃষ্ণনগরে ফেরার সময় ঘাটে বিজয়াদশমীর বিসর্জনের বাজনা শুনে তিনি বুঝতে পারেন সেই বছর দুর্গাপুজোর সময় পেরিয়ে গিয়েছে। তাই দুর্গাপূজার আয়োজন করতে না পেরে রাজা অত্যন্ত দুঃখিত হন।

সেই রাতেই স্বপ্নে দুর্গা জগদ্ধাত্রীর রূপে রাজাকে পরবর্তী শুক্লানবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী দুর্গার পূজা করার আদেশ দেন। কেউ কেউ আবার কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র গিরিশচন্দ্রকে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রবর্তক মনে করেন। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দরজা জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় এখনও খোলা রাখা হয়। আবার ১৭৭২ সালে রাজবাড়ির দেখাদেখি কৃষ্ণনগরের চাষাপাড়ায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রজারা জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেন। যা বুড়িমার পুজো নামে পরিচিত, এই পুজো শুরু হয়েছিল ঘটে ও পটে। প্রথম দিকে স্থানীয় গোয়ালারা দুধ বিক্রি করে এই পুজোর আয়োজন করতেন। ১৭৯০ সাল নাগাদ গোবিন্দ ঘোষ ঘটপটের পরিবর্তে প্রতিমায় জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন। এছাড়া কৃষ্ণনগরের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বারোয়ারি জগদ্ধাত্রী পুজো রয়েছে যাদের সংখ্যা ২০০ বেশি, যা জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য বিখ্যাত চন্দননগর মহানগরের চেয়েও বেশি।

কথিত আছে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রবর্তক ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ এই ইন্দ্রনারায়ণ ছিলেন চন্দননগরের ফরাসি সরকারের দেওয়ান। প্রায় আড়াইশো বছর আগে, কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পুজো দেখে মুগ্ধ হয়ে ইন্দ্রনারায়ণ চন্দননগরের লক্ষ্মীগঞ্জ চাউলপট্টির নিচুপাটিতে জগদ্ধাত্রী পুজো সূচনা করেন। এটিও চন্দননগরে আদি পুজো বলে পরিচিত। এখনও পর্যন্ত পুরুষানুক্রমে দেওয়ান চৌধুরীদের উত্তরপুরুষের নামে এই পুজোর সংকল্প হয়।

লক্ষ্মীগঞ্জ কাপড়পট্টির জগদ্ধাত্রীই হল চন্দননগরে দ্বিতীয় প্রাচীনতম পুজো। ১৭৬৮ সালে চাউলপট্টির চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতান্তর হওয়ায় কাপড় ব্যবসায়ী শ্রীধর বন্দ্যোপাধ্যায় (মতান্তরে শশধর) রীতিমতো চাঁদা তুলে এই পুজোর প্রবর্তন করেছিলেন। এই অঞ্চলের অপর দুটি পূজা হল লক্ষ্মীগঞ্জ চৌমাথা (স্থাপিত ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ) ও লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারের (স্থাপিত ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ) পূজা। এখানকার পুজো শুধু নবমীর বদলে সপ্তমী অষ্টমী নবমীতেই হতে দেখা যায়৷ চন্দননগরের জগদ্ধাত্রীপুজো ঘিরে আলোর রোশনাই জাঁকজমক খুবই বিখ্যাত ৷ আর তা দেখতে নানা স্থান থেকে এসে এই সময় লোকেরা চন্দননগরে ও তার আশপাশে ভিড় করে যার জন্য বিশেষ ট্রেনেরও ব্যবস্থা করা হয় ৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I